ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের মুদ্রাবাজারে বড়সড় ধস। বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্যে নজিরবিহীন পতন লক্ষ্য করা গেল। এদিন এক ধাক্কায় ৭৭ পয়সা কমে টাকার দাম দাঁড়িয়েছে ৯১.৭৪, যা এ যাবৎকালের সর্বকালীন সর্বনিম্ন রেকর্ড। মূলত বিদেশি লগ্নিকারীদের শেয়ার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং ধাতু আমদানিকারকদের কাছে ডলারের আকাশচুম্বী চাহিদাই এই পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফরেক্স ট্রেডারদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে ইউরোপের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য শুল্ক (tariffs) আরোপের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের শেয়ার বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতা টাকার দামকে আরও নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এদিন ইন্টারব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জে টাকার লেনদেন শুরু হয়েছিল ৯১.০৫ থেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দুর্বল হয়ে ৯১.৭৪-এ পৌঁছায়। এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর টাকার দাম রেকর্ড ৯১.১৪-তে নেমেছিল। আজ সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। গত মঙ্গলবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯০.৯৭ টাকা।
অর্থ ভারত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারস-এর প্রতিষ্ঠাতা শচীন সাউরিগকর এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “টাকার মূল্যের এই অস্থিরতা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভারতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও, মুদ্রার এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ কমিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এখন বাজারের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার তুলনায় ডলারের শক্তি মাপার এই সূচকটি এদিন ০.০২ শতাংশ কমে ৯৮.৬১-এ থিতু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.৮৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৩.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। টাকার পতনের প্রভাবে সেনসেক্স ২৮৯.৮৫ পয়েন্ট কমে ৮১,৮৯০.৬২ এবং নিফটি ৭৭.৪০ পয়েন্ট কমে ২৫,১৫৫.১০-তে নেমেছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা (FIIs) প্রায় ২,৯৩৮.৩৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, যা দেশীয় মুদ্রার ওপর চাপের একটি বড় কারণ।
