ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসআইআর আতঙ্কে ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার ঘটনায় এবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে এই খবর জানা গেছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝি (৮২) আত্মঘাতী হন। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের শুনানিতে হাজির হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে চরম মানসিক উদ্বেগের বশবর্তী হয়ে তিনি এই পথ বেছে নেন। মৃতের ছেলের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এফআইআর-এ নির্দিষ্ট কোনো আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।”
কেবল দুর্জন মাঝিই নন, গত মঙ্গলবার নওয়াদাপাড়া গ্রামের অক্ষত আলী মন্ডল (৫০) নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, এসআইআর শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে কাজের চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে বুথ স্তরের আধিকারিক (BLO)-সহ অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যে এই প্রক্রিয়ার জেরে বাড়তে থাকা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গত ৩ জানুয়ারি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা একটি চিঠিতে এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ করেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই সাধারণ ভোটারদের শুনানিতে তলব করে হয়রানি ও অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদেরও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। শুনানির বিকেন্দ্রীকরণ না করায় সাধারণ মানুষকে ২০-২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা অমানবিক।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে এসআইআর-এর প্রাথমিক পর্যায়ের পর প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মোট ৭.৬ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৬৬ কোটি ভোটারের ‘বৈধতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুনরায় নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে তলব করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
