এসআইআর নোটিশ পেয়ে আতঙ্ক, নথিপত্র খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ
(নিহত সফর আলী সেখ। || নিজস্ব চিত্র)
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র নিয়ে উদ্বেগের কালো ছায়া এবার কেড়ে নিল এক বৃদ্ধের প্রাণ। এসআইআর (SIR) নোটিশ হাতে পাওয়ার পর চরম আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ৭৫ বছর বয়সী সফর আলী সেখের। শুক্রবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামপুর থানার চক গ্রাম পঞ্চায়েতের নলবাটা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সফর আলীর হাতে একটি সরকারি নোটিশ পৌঁছায়। সেখানে তাঁর নিজের নামের সঙ্গে বাবার নামের অসংগতি বা গড়মিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই নথিপত্র ঠিক করার দুশ্চিন্তায় রাতভর অস্থির ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে প্রয়োজনীয় নথিপত্র খুঁজতে শুরু করেন বৃদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও উপযুক্ত প্রমাণপত্র হাতে না পাওয়ায় তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং হঠাৎই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের আত্মীয় ইমাজুদ্দিন সেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বৃহস্পতিবার নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ছোট আব্বার (সফর আলী) বুক জাম হয়ে আসছিল। আমি ওঁর শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে উনি কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু ইশারায় বোঝাতে চাইছিলেন যে উনি আর বাঁচবেন না। এই নোটিশের আতঙ্কই ওঁর প্রাণ কেড়ে নিল।”
এই ঘটনার পর থেকেই নলবাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই অপরিকল্পিত এসআইআর-এর জন্য নথিপত্র যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এক গ্রামবাসী ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ১০৫ নম্বর বুথের প্রায় ১১০০ ভোটারের মধ্যে একদিনেই ৪০০ জনের বেশি মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যে মানুষটি এই মাটিতে জন্মে ৭৫ বছর পার করলেন, আজ তাঁকে নতুন করে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে! এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”
মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান চক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বেগম হাসিনা নুসরাত। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে জানান, “নোটিশ পাওয়ার আতঙ্কে বৃদ্ধ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমরা বিধায়কের নির্দেশে নিহতের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমি গ্রামবাসীদের প্রতি অনুরোধ করছি, আপনারা অযথা আতঙ্কিত বা ভীত হবেন না।”
