নিখোঁজের সংবাদ পেলেই এফআইআর দায়ের করতে হবে: পুলিশকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে যেকোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশকে অবিলম্বে এফআইআর রুজু করতে হবে— স্পষ্ট ভাষায় এ কথা জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশ অমান্যকারী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানউল্লাহ এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মানব পাচার রোধ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের জন্য পূর্ববর্তী নির্দেশের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন।

আদালত জানায়, ২০১৬ সালের ২২ মে-র নির্দেশনায় যেকোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে পুলিশকে তাত্ক্ষণিকভাবে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শুনানিকালে আদালত জানতে পারে, কিছু রাজ্য কেবল ‘শিশু’ নিখোঁজের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ প্রযোজ্য বলে মনে করছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তা বিলম্বিত করছে। রাজ্যগুলির এই ব্যাখ্যাকাণ্ডকে শক্ত হাতে প্রত্যাখ্যান করে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, “আজ আমরা এটি জেনে হতবাক যে, কিছু রাজ্য মনে করছে ‘ব্যক্তি’ শব্দটি কেবল শিশুদের বোঝায়, প্রাপ্তবয়স্কদের নয়। আমরা মনে করি এটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসৎ অজুহাত। আমাদের আগের আদেশের ভাষা সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও নিখুঁত। ‘ব্যক্তি’ বলতে বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকে বোঝায়।” আদালত স্পষ্ট করে যে নির্দেশ অমান্যকারী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্য সচিব এবং পুলিশ প্রধানদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করা হবে এবং তাঁদের সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে।

২২ মে-র রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, নিখোঁজের খবর পাওয়া মাত্রই এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের নামে সময় নষ্ট করা যাবে না বা পরিবারকে আগে নিজেরা খুঁজতে বলা যাবে না। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার শুরুর কয়েক ঘণ্টা উদ্ধারকাজের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে অবিলম্বে সঠিক অভিভাবকত্ব যাচাই করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে পরিবার যদি পাচারের সাথে যুক্ত থাকে, তবে ভুক্তভোগীকে পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি সহ রাজ্য কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখতে হবে। এছাড়া, উদ্ধার হওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের আধার ভেরিফিকেশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিশুর জন্মের স্থান থেকেই ঐচ্ছিক সম্মতিক্রমে আধার কার্ড ইস্যু করার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের আদেশে আদালত উল্লেখ করে, বহু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পূর্ববর্তী নির্দেশের রূপায়ণ সংক্রান্ত হলফনামা জমা দেয়নি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখও তাদের জবাব দাখিল করেনি। ফলে লাদাখের মুখ্য সচিব ও ডিজিপি-কে ব্যক্তিগত হলফনামা পেশ করে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সাথে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশের সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও পোর্টালগুলিকে সমন্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। আগামী ৫ অক্টোবর দুপুর ২টোয় মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!