ডেইলি ডোমকল, গুয়াহাটি: অসমে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SR) প্রক্রিয়ায় কোনো বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (EC) কাছে জোরালো দাবি জানালো রাজ্যের বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত নাগরিকদের হয়রানি করতে ‘বিজেপি এজেন্টরা’ গণহারে ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) অপব্যবহার করছে।
ফর্ম ৭ নিয়ে বির্তক ও বাম দলগুলোর অভিযোগ
সিপিআই(এম), সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং এসইউসিআই (সি)-সহ বাম দলগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে মৃত বা বিদেশি তকমা দিয়ে জীবিত ও বৈধ নাগরিকদের নাম কাটার চেষ্টা চলছে বলে তাদের দাবি।
বাম দলগুলোর অভিযোগ, একজন অভিযোগকারীর নাম ব্যবহার করে শত শত ভোটারের বিরুদ্ধে আবেদন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যাঁর নাম ব্যবহার করে অভিযোগ জমা পড়েছে, তিনি নিজেই বিষয়টি জানেন না। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ওপর সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি নেতারা চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুস্মিতা দেবের চিঠি ও পরিসংখ্যানের খতিয়ান
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব এই বিষয়ে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটি চিঠি লিখেছেন। তিনি কাছাড়ের বড়খলা কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে জানান, সেখানে একজন বিজেপি বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) ২২টি ভুয়া অভিযোগ দাখিল করেছেন। অসমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন:
* শিলচর বিধানসভা কেন্দ্র: ১৫,৩০৪টি আপত্তি জমা পড়েছে।
* বরক্ষেত্রী: ১০,২৪৯টি আপত্তি।
* হাজো-শুয়ালকুচি: ১০,১৫১টি আপত্তি।
* কাটিগড়া: ৯,৬৭১টি আপত্তি।
* মঙ্গলদৈ: ৮,৬০২টি আপত্তি।
সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি
বিরোধীদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক আপত্তির শুনানি আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা অসম্ভব। প্রতিটি ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার জন্য শুনানির সময়সীমা আরও অন্তত সাত দিন বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন সুস্মিতা দেব। এছাড়া, এনআরসি-র (NRC) চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের নাম যেন ভোটার তালিকায় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিরোধীদের হুঁশিয়ারি, ভিত্তিহীন অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে প্রকৃত ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
