TOP NEWS

বিচারক সংকটে দেশের বিচার ব্যবস্থা: প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের জন্য মাত্র ২২ জন বিচারক, ক্রমবর্ধমান মামলার পাহাড়

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপের পাহাড় বেড়েই চলেছে। বিচার ব্যবস্থায় পরিকাঠামোগত সংকট ও বিচারকের অভাব নিয়ে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এল কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্যে। দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা যেমন প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য, তেমনই উচ্চ আদালতগুলোতে বিচারকের শূন্যপদ পূরণের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের জন্য বিচারকের সংখ্যা মাত্র ২২ জন। ২০১১ সালের জনগণনা এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতগুলোতে অনুমোদিত বিচারকের সংখ্যার ভিত্তিতে এই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইন কমিশন অনেক আগেই প্রতি ১০ লক্ষে ৫০ জন বিচারকের সুপারিশ করেছিল।

সরকারি পরিসংখ্যানে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে এক বিশাল শূন্যপদের চিত্র ধরা পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদিত ৩৪টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৩৩ জন বিচারক কর্মরত আছেন। বিভিন্ন রাজ্যের উচ্চ আদালতগুলোতে অনুমোদিত পদ ১,১২২টি হলেও, বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮১৪ জন বিচারক। অর্থাৎ, প্রায় ৩০০-র বেশি পদ শূন্য। পাশাপাশি জেলা ও অধীনস্থ আদালতগুলোতে ২০,৮৩৩ জন বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া সামলাচ্ছেন, যেখানে মামলার চাপ সবথেকে বেশি।

আইন কমিশনের ১২০তম রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মামলার ভার কমাতে বিচারক-জনসংখ্যা অনুপাত ৫০ হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান হার তার অর্ধেকেরও কম। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা ছিল ৩,৮৯,৯১০ জন। মামলার জটিলতা, সাক্ষী ও আইনজীবীদের অসহযোগিতা এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবেই এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার।

২০১৮ সাল থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক বৈচিত্র্যের একটি খতিয়ান পেশ করেছেন আইনমন্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে মোট ৮৪৭ জন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের সংখ্যা হল তফশিলি জাতি ৩৩ (SC), তফশিলি উপজাতি ১৭ (ST), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ১০৪ (OBC), সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ৪৬ ও নারী বিচারক ১৩০। যদিও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা চলছে, তবে সামগ্রিক বিচারক সংকট মেটাতে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ‘ই-কোর্ট মিশন মোড প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং আদালত কক্ষের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা চললেও, বিচারক ও জনসংখ্যার এই ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শূন্যপদ পূরণ ও বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচার পাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!