ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থান ও অরুণাচল প্রদেশসহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের বৈধতা নিয়ে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ চার্চেস ইন ইন্ডিয়া’ (NCCI)-র দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ NCCI-এর আর্জি গ্রহণ করে পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এনসিসিআই-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা এই আইনগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখারও আবেদন জানান। যে ১২টি রাজ্যকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে সেগুলি হলো- উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং অরুণাচল প্রদেশ।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি জানান, এই নতুন আবেদনটিকে আগে থেকে ঝুলে থাকা সমজাতীয় মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তিন বিচারপতির একটি বৃহত্তর বেঞ্চে এই সমস্ত আবেদনের একত্রে শুনানি হবে। আদালতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, “অনুরূপ কিছু আবেদন ইতিমধ্যেই বিচারাধীন রয়েছে। আমাদের জবাব প্রস্তুত এবং শীঘ্রই তা দাখিল করা হবে।” অন্যদিকে, আইনজীবী অরোরা যুক্তি দেন যে, ওড়িশা ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলোতে এমন কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে যা আগের মামলাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
খ্রিস্টান সংগঠনের আইনজীবীর দাবি, কয়েকটি রাজ্যের আইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা পরোক্ষভাবে ‘নজরদারি গোষ্ঠী’ বা ভিজিল্যান্টে গ্রুপগুলোকে উস্কানি দেয়। এর ফলে ভিত্তিহীন অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সরকারি পক্ষ এই দাবির বিরোধিতা করে জানায় যে, পাঁচ বিচারপতির একটি পুরনো সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ে এই ধরনের আইনগুলো স্বীকৃত।
এর আগে ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বিতর্কিত আইনগুলো খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডের আইনে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করলে দুই বছরের জেলের বিধান রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, এই আইনগুলো সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (ব্যক্তিগত স্বাধীনতা) এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার)-এর পরিপন্থী। আদালত এই মামলার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে আইনজীবী সৃষ্টি-কে আবেদনকারীদের পক্ষে এবং আইনজীবী রুচিরা-কে রাজ্যগুলোর পক্ষে ‘নডাল কাউন্সিল’ হিসেবে নিয়োগ করেছে।
