ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক আলোচনার সময় ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্রের রূপ নিল লোকসভা। বিরোধী দলনেতার মন্তব্যে সরকারের তীব্র আপত্তি এবং স্পিকারের বারবার হস্তক্ষেপে শাসক-বিরোধী সংঘাত চরমে পৌঁছায়। মূলত বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে তোলা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত। যা পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা, সংসদীয় নিয়মাবলী এবং সংবেদনশীল বিদেশ নীতি নিয়ে কথা বলার অধিকার নিয়ে একটি বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত হয়।
এদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম. এম. নারাভানের স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’ (Four Stars of Destiny)। রাহুল গান্ধী এই বইটির রেফারেন্স টেনে ডোকলামে চীনা ট্যাংকের অনুপ্রবেশ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাহুল গান্ধী যখন এই বিষয়ে বলছিলেন, তখনই বাধা দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি দাবি করেন, সংসদের ফ্লোরে কেবলমাত্র প্রমাণিত বা অনুমোদিত তথ্যই উপস্থাপন করা উচিত। রাহুল পাল্টা বলেন, তাঁর বক্তব্য নারাভানের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে। জবাবে রাজনাথ সিং বলেন, বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তাই একে প্রামাণ্য উৎস হিসেবে গণ্য করা যায় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই আপত্তিতে সমর্থন জানিয়ে বলেন, অপ্রকাশিত কোনো বই বা ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদে কোনো দাবি করা যায় না। স্পিকার ওম বিড়লা রুলিং দেন যে, সংসদীয় কার্যবিধির বাইরে কোনো বই বা নিবন্ধের উদ্ধৃতি দেওয়ার নিয়ম নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, “যদি কোনো বইয়ের উদ্ধৃতি না দেওয়া হয়, তবে কি সংসদে ভারত-চীন সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করাও নিষিদ্ধ?” তিনি আরও দাবি করেন যে, নারাভানের দেওয়া তথ্যগুলি চীনকে নিয়ে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, চীন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিরোধী দলনেতাকে এই বিষয়ে বলতে দেওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী স্পিকারের নির্দেশ অমান্য করছেন।
বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যের ‘দেশপ্রেম’ সংক্রান্ত মন্তব্যের রেশ টেনে রাহুল যখন পাল্টা আক্রমণ করছিলেন, তখন অমিত শাহ বলেন যে বিরোধী দলনেতা সংসদীয় শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে স্পিকার বিকেল ৩টে পর্যন্ত সভার কাজ মুলতবি করে দেন। স্পিকার মনে করিয়ে দেন, কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে হলে আগে থেকে লিখিতভাবে জানাতে হয়।
