TOP NEWS

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘাত: বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ২৫০-এর বেশি নিহত, নিরাপত্তার সংকটে পাকিস্তান

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সমন্বিত হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বুধবার এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই বড়সড় হামলার পালটা জবাব দিতে গিয়ে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পাক সরকারি বাহিনী। নিহতের তালিকায় ১৯০ জনের বেশি সশস্ত্র বিদ্রোহী যেমন রয়েছে, তেমনই প্রাণ হারিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এএফপি-কে (AFP) জানিয়েছেন, বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ১৯০ জন ‘সন্ত্রাসবাদী’ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই হামলায় অন্তত ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক এবং ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিভিন্ন ব্যাংক, কারাগার, থানা এবং সামরিক স্থাপনায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। কোয়েটা থেকে শুরু করে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। আমেরিকা কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত এই গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ চালিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই তারা খনিজ সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে কর্মরত বিদেশি সংস্থা এবং ভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা পাকিস্তানি নাগরিকদের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি গত রবিবার কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, আক্রান্ত সমস্ত জেলাগুলো জঙ্গিমুক্ত করা হয়েছে। তবে বুধবারও বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ওদের পিছু ধাওয়া করছি, ওদের আমরা এত সহজে ছাড়ব না।”

বেলুচিস্তানের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ (United Nations)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা এই হামলাকে ‘ঘৃণ্য এবং কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেছে। দশকব্যাপী চলা এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে গত বছরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালিয়েছিল বিদ্রোহীরা, যার ফলে দুই দিনব্যাপী দীর্ঘ অবরোধ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান এই সংঘর্ষ পরিস্থিতি পাকিস্তানকে এক গভীর নিরাপত্তার সংকটে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!