ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের সেনাসদরে গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘চিফ অফ জেনারেল স্টাফ’ (সিজিএস) নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে মতভেদের খবর সামনে এসেছে। নর্থইস্ট নিউজ (Northeast News) সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিফ অফ জেনারেল স্টাফ’ (সিজিএস) পদ পূরণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম অবসরে যাওয়ার পর থেকেই এই পদটি শূন্য রয়েছে। এই পদটি সেনাবাহিনীর বাজেট নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সিজিএস পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধান ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রস্তাব করেছেন। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বর্তমানে আর্টডক (ARTDOC)-এর জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে সিজিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) খলিলুর রহমান সমর্থন করছেন ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে। প্রসঙ্গত, মীর মুশফিকুর রহমানকে এই পদে বসাতে হলে তাঁকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিতে হবে। সেনাবাহিনী এই পদোন্নতির বিরুদ্ধে না থাকলেও, সেনাপ্রধান মাইনুর রহমানকে ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে আসতে বেশি আগ্রহী।
প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এই নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি রাজনৈতিকভাবে বিএনপির (BNP) ঘনিষ্ঠ। সেনাপ্রধান সম্ভবত ড. ইউনূসের এই সুপারিশ কার্যকর করতে কিছুটা কুণ্ঠাবোধ করছেন। অন্যদিকে, সেনাপ্রধানের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে যে, সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান-পন্থী অংশের প্রভাব কমাতে এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তিনি বেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পূর্বে মেজর জেনারেল জুবায়ের সালাহিনের নাম সিজিএস পদের জন্য আলোচিত হলেও তিনি এলপিআর (LPR)-এ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২৮ জানুয়ারি সেনাসদর থেকে তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ইতিপূর্বে বর্তমান পিএসও (আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে সিজিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানকে পিএসও হিসেবে সরিয়ে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেনাপ্রধান এই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, খলিলুর রহমান সেনাপ্রধানের ক্ষমতাকে ‘সংকুচিত’ করতেই এই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে থাকায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও সেনাসদরের মধ্যেকার শীতল লড়াই বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
