ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তির আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে নয়া মোড়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্যারিস। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার কোনো ‘প্রকৃত সদিচ্ছা’ মস্কোর পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।
উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সে এক সফরের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যাক্রোঁ জানান, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে বর্তমানে ‘প্রযুক্তিগত স্তরে’ (Technical level) কথাবার্তা চলছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মন্ডে (Le Monde) তাঁর এই মন্তব্যটি প্রকাশ করেছে। ম্যাক্রোঁ মনে করেন, যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনা শুরুর কথা বললেও ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এই সংলাপ কার্যকর হতে পারে, কিন্তু রাশিয়া আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে আমার মনে হয় না।” তাঁর মতে, ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাগুলো ‘অসহনীয়’ এবং এটি প্রমাণ করে যে মস্কো শান্তি স্থাপনে আদপেও আন্তরিক নয়।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন যে, যুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলোর জন্য নিজস্ব আলোচনার পথ বা ‘চ্যানেল’ পুনরায় সচল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ইউরোপকে তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনার প্রস্তুতি চললেও ইউক্রেনকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়া থেকে ফ্রান্স পিছু হটবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফ্রান্সের সংহতি আগের মতোই অটুট থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে কড়া সমালোচনা এবং অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখা—ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
