ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে অভদ্র আচরণ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করে শিরোনামে এলেন। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিএনএন (CNN)-এর হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট কেইটলান কলিন্সকে “সবচেয়ে খারাপ রিপোর্টার” বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি সিএনএন-কে একটি “অসাধু সংস্থা” হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। কেবল পেশাগত আক্রমণই নয়, ওই সাংবাদিক কেন হাসেন না—তা নিয়েও বিদ্রূপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে কেইটলান কলিন্স কুখ্যাত জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইলগুলো নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন। কলিন্স জানতে চান, মার্কিন বিচার বিভাগ কেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আড়াল করেছে এবং এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট এপস্টাইনের নিগৃহীতারা যখন মনে করছেন যে তাঁরা বিচার পাননি, তখন প্রেসিডেন্টের তাঁদের প্রতি কী বার্তা রয়েছে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ট্রাম্প সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাকে দশ বছর ধরে চিনি। আমার মনে হয় না আপনার মুখে কখনও হাসি দেখেছি। জানেন আপনি কেন হাসেন না? কারণ আপনি জানেন যে আপনি সত্য বলছেন না। আপনারা একটি অত্যন্ত অসাধু সংস্থা এবং আপনার জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।”
রিপোর্টারদের ওভাল অফিস থেকে বের করে দেওয়ার সময়ও ট্রাম্পকে বিরক্তির সঙ্গে বলতে শোনা যায় যে, কলিন্স “কখনও হাসেন না”। এমনকি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি কলিন্সকে “নির্বোধ ও জঘন্য” বলেও আক্রমণ করেন।
মহিলা সাংবাদিকদের প্রতি ট্রাম্পের এমন কুরুচিকর মন্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর এক নারী সাংবাদিককে চুপ করাতে গিয়ে তিনি “চুপ! চুপ করো, শূকরছানা” বলে সম্বোধন করেছিলেন। আফগান শরণার্থীদের স্ক্রিনিং নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিককে তিনি সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনি কি নির্বোধ?”। নিজের বয়স এবং ক্লান্তি নিয়ে প্রতিবেদন লেখায় নিউইয়র্ক টাইমসের এক নারী সাংবাদিককে তিনি “কুৎসিত” বলে আক্রমণ করেছিলেন।
কেইটলান কলিন্স একজন অভিজ্ঞ মার্কিন সাংবাদিক। ডেইলি কলার-এর হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ২০১৭ সালে তিনি সিএনএন-এ যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে অন্যতম প্রধান সঞ্চালক। এই ঘটনার পর সিএনএন তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, কলিন্স একজন “অসাধারণ এবং সাহসী সাংবাদিক”, যিনি অত্যন্ত গভীরতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের এই আচরণ আবারও প্রমাণ করল যে, তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সংঘাত কোন চরমে পৌঁছেছে। সমালোচকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই ট্রাম্প বারবার সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বুলিং-এর পথ বেছে নেন।
