ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁস করে এক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের গদি টলিয়ে দিয়েছিল যে সংবাদপত্র, আজ সেই ঐতিহ্যের ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ (The Washington Post) এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। বুধবার সংবাদপত্রের মালিক তথা আমাজন প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোসের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদপত্রের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই সিদ্ধান্তকে “যন্ত্রণাদায়ক পুনর্গঠন” বলে অভিহিত করেছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের নিউজরুমে প্রায় ৮০০ জন সাংবাদিক কর্মরত ছিলেন, তবে বর্তমান পদক্ষেপে সেই সংখ্যা “যথেষ্ট” কমানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদ বিভাগে। কায়রো ব্যুরো চিফ ক্লেয়ার পার্কার জানিয়েছেন, তাঁসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি দল এবং সম্পাদকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ জনের গ্রাফিক্স টিম কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ৯ জনে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সংবাদপত্রের জনপ্রিয় ডেইলি পডকাস্ট ‘পোস্ট রিপোর্টস’।
নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে কর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা এক বার্তায় জানান, বর্তমান সংবাদ মাধ্যমগুলো এক কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের পরিকাঠামো এখনও সেই পুরনো প্রিন্ট মিডিয়া যুগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এআই-জেনারেটেড কন্টেন্ট এবং স্বল্প খরচে খবর তৈরির নতুন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে পাল্লা দিতেই এই স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পদক্ষেপ।”
তবে এই ছাঁটাইয়ের পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণও দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদেও সাংবাদিকদের “ফেক নিউজ” বলে আক্রমণ করা এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। মজার বিষয় হলো, এক সময়ের কড়া সমালোচক জেফ বেজোস বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের ওপর একটি তথ্যচিত্রের জন্য আমাজন ৪০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বলেও খবর চাউর হয়েছে।
বেজোসের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড’ (Washington Post Guild)। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিউজুরুমকে এভাবে গুরুত্বহীন করে ফেললে তার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের ওপর চরম প্রভাব পড়বে।” ইউনিয়নের দাবি, বেজোস যদি এই পত্রিকার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ও আদর্শের পেছনে বিনিয়োগ করতে না পারেন, তবে এটি এমন কারো হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত যারা এর মর্যাদা বুঝবেন। পোস্টের প্রাক্তণ নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের “অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি” বলে বর্ণনা করেছেন।
২০১৩ সালে বেজোস যখন এই সংবাদপত্রটি কিনেছিলেন, তখন নতুন আশার আলো দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আজকের এই গণছাঁটাই প্রমাণ করল, কর্পোরেট স্বার্থ এবং বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা আজ কতটা কোণঠাসা।
