ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জন সুরাজ পার্টির করা আবেদন শুনতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের মঞ্চ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যাবে না। পাশাপাশি, এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আবেদনকারীকে পাটনা হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে একটিও আসন না পাওয়া প্রশান্ত কিশোরের দল সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছিল যে, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে এবং আদর্শ আচরণবিধি (MCC) চলাকালীন নীতীশ কুমার সরকার ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-র আওতায় ১৫,৬০০ কোটি টাকা বিলি করেছে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রায় ৩৫ লক্ষ মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নষ্ট করা হয়েছে। এই কারণে পুরো রাজ্যের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে ভোট করানো হোক।
আবেদনকারী দলকে কার্যত ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “মানুষ যখন আপনাকে প্রত্যাখ্যান করে, তখন আপনি স্বস্তি পেতে বিচারবিভাগীয় মঞ্চ ব্যবহার করেন! আপনারা কতগুলো ভোট পেয়েছেন? যদি প্রকল্পের বিরোধিতা করারই ছিল, তবে তখনই করা উচিত ছিল।”
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয়, এটি একটি রাজ্যের বিষয়, তাই এই আবেদন পাটনা হাইকোর্টে করা উচিত ছিল। পুরো রাজ্যের নির্বাচন একসাথে বাতিল করার মতো ‘ওমনিবাস’ নির্দেশ আদালত দিতে পারে না। স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা আদালত বিচার করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-এর বিহার নির্বাচনে ২৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) ২০২টি আসন পেয়ে বিশাল জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে ইন্ডি জোট পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি কোনো আসন তো পায়ইনি, বরং তাদের অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী সিইউ সিং জন সুরাজ পার্টির হয়ে সওয়াল করে বলেন, “রাজ্যের রাজকোষে বড় ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেবল ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিলি করা হয়েছে।” তবে আদালত এই যুক্তি মানতে নারাজ হয়ে আবেদনটি হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
