ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে ১১৪টি রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানসহ বিশাল অংকের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার প্রস্তাবে সিলমোহর দিল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (DAC)। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আনুমানিক ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকার (প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭-১৯ ফেব্রুয়ারি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-র ভারত সফরের ঠিক আগেই এই বড় ঘোষণা এল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ১১৪টি নতুন রাফাল জেট কেনা হবে। এর মধ্যে ১৮টি জেট সরাসরি ফ্রান্স থেকে আসবে এবং বাকি ৯৬টি জেট ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ভারতে তৈরি করা হবে। ফরাসি সংস্থা ডাসাল্ট অ্যাভিয়েশন ভারতের কোনো স্থানীয় সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই কাজ করবে। এই চুক্তির ফলে ভারতের হাতে থাকা রাফাল জেটের মোট সংখ্যা অনেক বাড়বে, যা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমাতে সাহায্য করবে। বর্তমানে বিমানবাহিনীর কাছে ৩৬টি রাফাল রয়েছে এবং নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফাল (মেরিন সংস্করণ) কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএসি নৌবাহিনীর জন্য আরও ৬টি মার্কিন তৈরি বোয়িং P-8I নজরদারি বিমান কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই দীর্ঘপাল্লার বিমানগুলি সাবমেরিন ধ্বংস করতে এবং সমুদ্রসীমায় কড়া নজরদারি চালাতে অতুলনীয়। ইতিপূর্বে পূর্ব লাদাখে চীন সীমান্তে এবং ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় (অপারেশন সিন্দুর) এই বিমানগুলি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই তালিকায় সবথেকে চমকপ্রদ সংযোজন হলো High Altitude Pseudo Satellite (HAPS)। এটি একটি উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন ড্রোন বা চালকহীন আকাশযান, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উপরে স্ট্যাটোস্ফিয়ারে থেকে মাসের পর মাস নজরদারি চালাতে পারে। এটি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহের তুলনায় সস্তা এবং বাণিজ্যিক বিমানের অনেক উপর দিয়ে ওড়ে বলে একে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্ত পাহারায় এটি গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।
তালিকায় রয়েছে- মাটির গভীর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার জন্য রাফাল জেটে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর টি-৭২ (T-72) ট্যাঙ্ক এবং ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিক্যালের (BMP-II) ওভারহল বা আমূল সংস্কারের কাজ করা হবে এবং প্রতিরক্ষা কবজ মজবুত করতে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মাইন কেনা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই কেনাকাটার ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছাবে। AoN পাওয়ার পর এই প্রস্তাব এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (CCS) কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে।
