ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুনেতে ফের এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত যুবকের নাম সুখেন ধীরেন মাহাতো (২৪)। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার বান্দোয়ান গ্রামে। এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘হেট ক্রাইম’ বলে উল্লেখ করে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুনে পুলিশ একে মদ্যপ অবস্থায় দুই ব্যক্তির সঙ্গে বচসার ফল বলে দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, “পুনেতে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ২৪ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে আমি স্তম্ভিত এবং ক্ষুব্ধ। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য এবং নিজের পরিচয়ের কারণে ওই যুবককে খুঁজে বের করে অকথ্য নির্যাতন ও খুন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এটি আসলে জেনোফোবিয়া বা বহিরাগত-বিদ্বেষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের ঠিক পরেই পুনে গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে। পুনের শিকারপুর থানার ইন্সপেক্টর দীপরাতন গায়কোয়াড জানিয়েছেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কোরেগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, সুখেন একটি স্থানীয় শিল্প সংস্থায় কাজ করতেন। সেদিন দুপুর ৩টের সময় তিনি কাজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোলেও কাজে যাননি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্নভাবে কোরেগাঁও এলাকায় ঘুরছিলেন। সেই অবস্থায় স্থানীয় দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। ইন্সপেক্টর আরও জানান, সিসিটিভিতে বচসার দৃশ্য দেখা গেলেও ঠিক কোন মুহূর্তে হামলা হয়েছে তা ক্যামেরাবন্দি হয়নি। তবে বচসার রেশ ধরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। পুলিশের দাবি, এর পেছনে ভাষা বা পরিচয় সংক্রান্ত অন্য কোনও বিষয় নেই।
পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের রক্তাক্ত মরদেহের একটি ভিডিও শেয়ার করে এই ঘটনার জন্য মহারাষ্ট্রের পরিবেশকে দায়ী করেছেন। বর্তমানে সুখেনের পরিবার এবং পুরুলিয়ার বান্দোয়ান গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও উত্তাপ বাড়ছে।
