ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৩ সালে পুলিশি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারানো ভারতীয় ছাত্রী জাহ্নবী কাণ্ডুলার পরিবারের সঙ্গে ২৯ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৪০ কোটি টাকা) বিশাল অঙ্কের এক রফায় পৌঁছাল সিয়াটল শহর কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার সিয়াটলের সিটি অ্যাটর্নি এরিকা ইভান্স এক বিবৃতিতে এই সমঝোতার কথা ঘোষণা করেন।
২০২৩ সালে সিয়াটলে রাস্তা পার হওয়ার সময় পুলিশ অফিসার কেভিন ডেভ-এর গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২৩ বছর বয়সী জাহ্নবী। উত্তর-পূর্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের (Northeastern University) ইনফরমেশন সিস্টেমের স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী ছিলেন তিনি। তদন্তে জানা যায়, যে রাস্তায় গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিমি, সেখানে কেভিন ডেভ প্রায় ১১৯ কিমি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একটি ড্রাগ ওভারডোজের ডাক পেয়ে দ্রুত যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জাহ্নবীর মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনার কারণেই নয়, বরং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের জন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। দুর্ঘটনার পর ড্যানিয়েল অডেরার নামে অন্য এক পুলিশ অফিসারের বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁকে জাহ্নবীর মৃত্যু নিয়ে হাসাহাসি করতে দেখা যায়। তিনি বলেছিলেন, জাহ্নবীর জীবনের “সীমিত মূল্য” (limited value) আছে এবং শহরের উচিত “একটি চেক লিখে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা।” এই অমানবিক মন্তব্যের পর ভারত সরকার এবং প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। ভারতীয় কূটনীতিকরা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন।
সমালোচনার মুখে সিয়াটল পুলিশ বিভাগ ড্যানিয়েল অডেরারকে বরখাস্ত করে। গাড়ি চালক অফিসার কেভিন ডেভকেও বরখাস্ত করা হয়েছে এবং গাফিলতির জন্য তাকে ৫,০০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছেন এমন প্রমাণ মেলেনি। সিটি অ্যাটর্নি এরিকা ইভান্স বলেন, “জাহ্নবীর মৃত্যু হৃদয়বিদারক ছিল। এই আর্থিক সমঝোতা তাঁর পরিবারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে আশা করি। জাহ্নবীর জীবনের মূল্য তাঁর পরিবার এবং আমাদের সমাজের কাছে অপরিসীম।”
কিংক কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে এই সমঝোতার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ২৯ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার মেটানো হবে শহরের বিমা থেকে এবং বাকি অংশ শহর প্রশাসন সরাসরি বহন করবে।
