ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইসরায়েলের দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের জেরে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নয়তো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (UNRWA) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে, যেসব স্কুল ভবন এখনও দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে গাজার শিশুরা প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা অস্থায়ী শিখনকেন্দ্র অথবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছে। ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চরম ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তাদের কর্মীরা শিশুদের শিখন সহায়তা প্রদানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অবকাঠামোর এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,৫৭৮ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই দুই বছরের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,০০০-এর বেশি মানুষ। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া, যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যা উপত্যকাটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।
