ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও নিকোলাস মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ এই দাবি করেন। গত মাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন।
মার্কিন আদালতে প্রথম শুনানিতে অপসারিত ভেনেজুয়েলা নেতা মাদুরো নিজের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের সবকটিতেই ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানি ষড়যন্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখার অভিযোগ রয়েছে। আদালতে নিজের জবানবন্দিতে মাদুরো বলেন, “আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি একজন ভদ্র মানুষ।” তিনি দৃঢ়ভাবে পুনরায় দাবি করেন, “আমি এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।”
দেলসি রদ্রিগেজও পেশায় আইনজীবী হিসেবে এনবিসি নিউজকে বলেন, “আমি আপনাকে বলতে পারি, নিকোলাস মাদুরো বৈধ প্রেসিডেন্ট। মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দু’জনেই নির্দোষ।” ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী নিজের কর্তৃত্বের কথা উল্লেখ করে রদ্রিগেজ বলেন, “আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে আছি, কারণ এটি ভেনেজুয়েলার সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।” গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোর আটকের পরপরই রদ্রিগেজ মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে এরপর থেকে তার অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দুবার কথা বলেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন।
সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তাঁর জীবন নিয়ে কেন এত হৈচৈ হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।” তিনি মাচাদোকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাঁকে ভেনেজুয়েলার কাছে জবাবদিহি করতে হবে, কেন তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের ডাক দিয়েছিলেন, কেন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিলেন এবং কেন জানুয়ারির শুরুতে (মাদুরোকে আটক) যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য উদযাপন করেছিলেন।” উল্লেখ্য, মাচাদো সম্প্রতি হোয়াইট হাউস পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেলটি উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
