ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। ভোট মানেই ‘ছাপ্পা’, ‘বুথ জ্যামিং’ বা হিংসার যে অভিযোগ বারবার ওঠে, তা সমূলে উৎপাটন করতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই— অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
গত ২২ মার্চ মুখ্যসচিবের স্বাক্ষর করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভোটাররা যাতে কোনওরকম ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশিকাটি পাঠানো হয়েছে- রাজ্যের সমস্ত দফতরের প্রধানদের, জিটিএ-র (GTA) প্রধান সচিবকে, কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (DM)।
ভোটকে সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত রাখতে মূলত ৬টি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন:
হিংসা দমন: ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও ধরনের অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
ভীতিমুক্ত পরিবেশ: সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
ছাপ্পা রুখতে নজরদারি: বুথ দখল বা জাল ভোট রুখতে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে।
প্রলোভন নিয়ন্ত্রণ: ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনও ধরনের উপঢৌকন বা আর্থিক প্রলোভন যাতে কাজ না করে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
দ্রুত পদক্ষেপ: গোলমালের খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনকে দ্রুত সক্রিয় হতে হবে।
সমন্বয়: পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বুথ জ্যামিং রুখতে এবার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে। নবান্নের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, বিধানসভা ভোটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে ভরসা জোগাতে মুখ্যসচিবের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
