এফসিআরএ বিলকে ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আখ্যা: বিদেশি অর্থায়ন আইন নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় থারুর
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: প্রস্তাবিত ‘বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-কে “নির্বাহী ক্ষমতার বিপজ্জনক কেন্দ্রীকরণ” এবং “গণতন্ত্রবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ হতে যাওয়া এই বিলটি ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুশীল সমাজের মধ্যকার সম্পর্কের বিন্যাসকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের এই সাংসদ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে থারুর অভিযোগ করেন, সরকার তার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী মতাদর্শ এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরের প্রতি অ্যালার্জির কারণেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রস্তাবিত বিলে ঠিক কী রয়েছে?
প্রস্তাবিত ‘এফসিআরএ সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এ কেন্দ্র সরকারকে এক বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। এই বিলে একটি ‘মনোনীত কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল হলে, তারা নিবন্ধন সমর্পণ করলে কিংবা সময়মতো তা নবায়ন না হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে—বিদেশি অনুদান এবং সেই অনুদানে তৈরি সমস্ত সম্পত্তি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ওই কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তবে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব সম্পত্তি কোনো উপাসনালয় বা ধর্মীয় কেন্দ্র, সেগুলির ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা সুনিশ্চিত করবে সরকার।
“৮৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বিদেশি অনুদান”
আইনের অতীতের কড়াকড়ির কথা উল্লেখ করে শশী থারুর বলেন, পূর্ববর্তী সংশোধনীদের মাধ্যমেই ইতিমধ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চরম জটিল নিয়মকানুন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল স্তরের সংস্থাকে অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ করা, প্রশাসনিক খরচের সীমা কমিয়ে আনা এবং সমস্ত বিদেশি তহবিলের জন্য নয়াদিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা বাধ্যতামূলক করার ফলে বিদেশি অর্থসংস্থান প্রায় ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক সংগঠন বাধ্য হয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এবার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নতুন বিধানটি যুক্ত হলে নাগরিক সমাজের এই ক্ষেত্রটি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাইপাস হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভাব এবং কেরালার অভিজ্ঞতা
কেরালার সামাজিক বাস্তবতার উদাহরণ দিয়ে শশী থারুর বলেন, শতাব্দী ধরে খ্রিস্টান পরিচালিত বিভিন্ন দাতব্য ট্রাস্ট, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং সামাজিক উন্নয়নকারী এনজিওগুলো জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রান্তিক মানুষের সেবা করে আসছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিলের সঙ্গে সরাসরি জমি ও ভবন বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি জুড়ে দিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কোনো একটি বিলম্ব বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে একটি চলমান ৫০০ শয্যার দাতব্য হাসপাতাল রাতারাতি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হতে পারে। এর ফলে ব্যাহত হবে সাধারণের পরিষেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ ভারতীয়রা।” এই বিলকে দেশের উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে নিযুক্ত সংস্থাগুলোর প্রতি এক চরম অবিচার হিসেবে বর্ণনা করে থারুর বিরোধী দলগুলোকে সংসদে এই বিলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এফসিআরএ সংক্রান্ত তথ্য ও তথ্যসংখ্যা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩,৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫,৭৪১ কোটি টাকার বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে এফসিআরএ পোর্টালের হিসেব অনুযায়ী (১৫ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত), দেশে সক্রিয় এফসিআরএ সার্টিফিকেটের সংখ্যা ১৪,৪৪৯টি। অন্যদিকে, ২২,৪৯৮টি সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে এবং ১৫,২১২টি সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ বলে গণ্য করা হয়েছে।
