অজিত ডোভালের ‘আন্ডারকভার এজেন্ট’! বিহার পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ভুয়ো আইএএস অফিসার
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: নিজেকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ‘আন্ডারকভার এজেন্ট’ এবং কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের ‘চিফ সিকিউরিটি অফিসার’ দাবি করা ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বিহারের খাগড়িয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম মুকেশ কুমার গুপ্তা। পেশাদার প্রতারক ও আমলা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি চালানোর অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়।
অভিযুক্তের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি নেভি ব্লু রঙের ‘টেসলা’ ও একটি ‘টাটা সাফারি’ গাড়ি, যেগুলোতে “ভারত সরকার” লেখা স্টিকার লাগানো ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, খাগড়িয়ার জামালপুর এলাকায় মুকেশের একটি পাঁচতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে মুকেশ নিজেকে একজন আইএএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর স্মার্টফোনে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখান, যেখানে তাঁকে সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের ‘চিফ সিকিউরিটি অফিসার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি আরও দাবি করেন, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অধীনে একজন গোপন বা আন্ডারকভার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তবে পুলিশ পরিচয়পত্রটি যাচাই করে নিশ্চিত করে যে তিনি সরকারি অফিসারের পরিচয় ভাঁজিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
মুকেশের বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর জিনিস উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে- ৫টি আইফোন, ১টি অ্যাপল ম্যাকবুক, ১টি আইপ্যাড, ৪ টেরাবাইটের একটি হার্ডডিস্ক এবং ১১টি ক্যামেরার একটি উচ্চপ্রযুক্তির সিসিটিভি সিস্টেম। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ২০টি ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, চেক বই এবং প্রিওরিটি পাস কার্ড। ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বুনো হরিণের শিং, ৩২ বোতল বিদেশি মদ এবং ৩০টি বিয়ারের ক্যান। উল্লেখ্য, বিহারে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধ থাকায় মদ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এ বিষয়ে মুকেশ দাবি করেছেন, লন্ডনে বসবাসকারী তাঁর ভাই অজিত কুমার মাঝে মাঝে পরিবারের জন্য এই বিদেশি মদ নিয়ে আসতেন।
আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও সম্পদ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মুকেশের অর্থ লেনদেন এবং রাজ্যের বাইরে ও বিদেশে থাকা সম্পত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বিহারের বাইরে ও বিদেশে তাঁর বেশ কিছু সম্পত্তির তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
