আমরা চুরি ধরেছি, এবার আমরাই বিচারও দেব: ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ‘আলোচনাই সমাধান’ বললেন সোরেন

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় রাঁচিতে। ১৭তম দিনে পদার্পণ করা শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গোলযোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সোমবার বিধানসভা অভিমুখে আন্দোলনকারীদের মিছিল এগিয়ে চললে তা ঠেকাতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ করে এবং মৃদু লাঠিচার্জ চালায়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৪ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাঁচির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ রাকেশ রঞ্জন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যে সব অসামাজিক ও দুষ্কৃতী উপাদান ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করবে।” তিনি আরও জানান, সোমবারের এই বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে “মৃদু লাঠিচার্জ” করতে হয়েছিল। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ১৪ জন পুলিশ কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় কারচুপি ও অনিয়মের প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীদের এই আন্দোলন সোমবার ১৭তম দিনে প্রবেশ করে। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের বিধানসভা ঘেরাও অভিযান রুখতে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করা হয় আন্দোলনকারীদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ১৬ দিন ধরে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে বড় বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। রবিবার ‘ঝাড়খণ্ড আদিবাসী মহোৎসব’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ঘরে কোনো সমস্যার সমাধান লাঠি বা বন্দুকের জোরে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্তের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রদান করেছেন। পরীক্ষায় কারচুপির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১৬তম দিনে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, “ঝাড়খণ্ডের স্বাবলম্বিতা মেনে নিতে না পেরে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজ্যে গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করতে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে। লাঠি-ডান্ডা বা বন্দুক নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। অস্ত্র কেবল সীমান্তে শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।” তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যুবকদের চিন্তাই আমার চিন্তা। আমি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কথা দিচ্ছি যে পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আপনাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আমরা চুরি ধরেছি, এবার বিচারও আমরাই দেব।”

দিল্লির জন্তর মন্তরে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবাই দেখেছে কীভাবে সেখানে যুবকদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, পেলেট গান ও লাঠিচার্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তাদের দেশদ্রোহী বলে তকমা দেওয়া হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা মিথ্যা ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং এতে কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীও জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনীতিভুক্ত করা উচিত নয়। যাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তাদের যুবসমাজকে ভুল পথে চালিত না করার জন্য সতর্ক করছি।”

রবিবার শিক্ষার্থীদের অনশন ও বিক্ষোভ ১৬তম দিনে পদার্পণ করে, যেখানে ৬ জন আন্দোলনকারী অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে— ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আমূল সংস্কার। বিতর্কিত পরীক্ষাগুলোতে হওয়া অনিয়মের বিরুদ্ধে সিবিআই অথবা রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারকদের প্যানেল দ্বারা স্বাধীন তদন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!