ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে ১১৪টি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার একটি মেগা চুক্তিতে চলতি সপ্তাহেই সিলমোহর দিতে পারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এনডিটিভি (NDTV) সূত্রে খবর, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-র ভারত সফরের প্রাক্কালেই এই চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে পারে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসের বৃহত্তম অস্ত্র চুক্তি হতে চলেছে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর
এই চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ১১৪টি বিমানের মধ্যে প্রায় ১০০টি বিমান ভারতেই তৈরি করা হবে। এর ফলে ফ্রান্স থেকে উচ্চমানের ফাইটার জেট প্রযুক্তি ভারতে হস্তান্তরিত হবে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন রাফাল ভারতের সেরা পছন্দ?
রাফাল একটি দুই ইঞ্জিনের মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, যা আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ করতে বিশ্বের অন্যতম সেরা। এর আগে ভারত ৩৬টি রাফাল বিমান (C ভেরিয়েন্ট) হাতে পেয়েছে, যা বর্তমানে আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারার ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফাল (M ভেরিয়েন্ট) কেনার জন্য ইতিমধ্যেই ৬৩,০০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাফালের দক্ষতা
গত বছর মে মাসে পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ রাফাল বিমান প্রথমবার সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নেয়। এছাড়া লাদাখ সীমান্তেও এটি মোতায়েন ছিল। রাফালের ভান্ডারে থাকা SCALP ক্রুজ মিসাইল ২৫০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়াও এতে রয়েছে Meteor এবং Hammer-এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
টাটা-ডাসল্ট অংশীদারিত্ব
হায়দরাবাদে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে চলেছে। এখানে বিমানের ফিউজলেজ বা মূল কাঠামোর বিভিন্ন অংশ তৈরি হবে। লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে যে, ২০২৮ সাল থেকে প্রতি মাসে দুটি করে ফিউজলেজ তৈরি করা হবে, যা পরে ফ্রান্সের মেরিন্যাক প্ল্যান্টে পাঠিয়ে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
