ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: উন্নাও গণধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের স্বস্তি মিলল না দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও। নির্যাতিতার বাবার পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু সংক্রান্ত মামলায় সেঙ্গারের জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
কুলদীপ সিং সেঙ্গারের আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্য়েই সাড়ে সাত বছরের বেশি জেল খাটছেন, তাই তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। অন্যদিকে, সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানান, সেঙ্গার ইতিমধ্য়েই ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন, তাই এই বিশেষ ক্ষেত্রে জামিন দেওয়ার মতো কোনো জোরালো কারণ নেই। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও মন্তব্য করেন, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মতো গুরুতর মামলায় আদালত সাধারণত জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে।
‘আট বছর ধরে লড়াই করছি’: নির্যাতিতার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতা নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি আজ সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলাম। বিচারপতির রায়ে আমি খুশি। আমার বাবা আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু আমি চাই কুলদীপ সিং সেঙ্গারের ফাঁসি হোক। তাহলেই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।” আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি আরও বলেন, “গত আট বছর ধরে আমি নিজেকে নির্যাতিতা প্রমাণ করার লড়াই লড়ছি। আমি কি আজও বেঁচে আছি? এটাই কি আমার অপরাধ? আমি যদি নির্ভয়ার মতো মরে যেতাম, তবে সবাই বিশ্বাস করত যে আমার সাথে অন্যায় হয়েছে। আমি বেঁচে আছি বলেই আজও আমাকে প্রমাণ দিতে হচ্ছে।”
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২০ সালের ৪ মার্চ নিম্ন আদালত সেঙ্গারকে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু এবং ষড়যন্ত্রের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন সেঙ্গার। সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই তিনি জামিন চেয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু আগামীকাল অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হচ্ছে, তাই এই মুহূর্তে জামিন দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
উন্নাও নির্যাতিতার অভিযোগ, কুলদীপ সিং সেঙ্গারের ভাই অতুল সিং এবং জয়দীপ সিং সেঙ্গার তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন। বর্তমানে সেঙ্গারের ভাইয়েরা চিকিৎসার প্রয়োজনে জেলের বাইরে থাকলেও, মূল অভিযুক্ত সেঙ্গারকে জেলেই থাকতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
