ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: দলের অন্দরে মান-অভিমান এবং বিদ্রোহের গুঞ্জনের মাঝেই কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের পর থারুর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের সঙ্গে তাঁর কোনো দূরত্ব নেই এবং তাঁরা সবাই এখন “একই মেরুতে” রয়েছেন।
সংসদ ভবনে খাড়গের চেম্বারে আয়োজিত এই বৈঠকটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। সূত্রের খবর, সেখানে রাহুল গান্ধী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, “আমাদের দলের দুই শীর্ষ নেতা— বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সব ঠিক আছে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এগোচ্ছি। এর চেয়ে বেশি আর কীই বা বলার থাকতে পারে!” আসন্ন কেরল বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে চান কি না— এই প্রশ্নের উত্তরে থারুর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কখনোই কোনো সমস্যা ছিল না। আমি কোনো পদের জন্য প্রার্থী হতে আগ্রহী নই। বর্তমানে আমি তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ এবং আমার ওপর ভোটারদের আস্থা রয়েছে। সংসদে তাঁদের স্বার্থরক্ষা করাই এখন আমার প্রধান কাজ।”
গত সপ্তাহে কেরালা নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে থারুর অনুপস্থিত থাকায় তাঁর দলত্যাগের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছিল, গত ১৯ জানুয়ারি কোচিতে আয়োজিত ‘মহা পঞ্চায়েত’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের নাম নিলেও, চারবারের সাংসদ থারুরের নাম উল্লেখ করেননি। এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে মনে করা হচ্ছিল। এছাড়াও কেরালা প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল।
প্রসঙ্গত, গত বছর ভারত-পাকিস্তান ইস্যু এবং পহেলগাম হামলা সংক্রান্ত বিদেশনীতি নিয়ে থারুরের কিছু মন্তব্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পরিপন্থী বলে মনে করেছিলেন দলের অনেক নেতা। তবে থারুর বরাবরই দাবি করেছেন, জাতীয় স্বার্থ ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। শুক্রবার মল্লিকার্জুন খাড়গে কেরালা কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। তার ঠিক আগের দিন থারুরের এই “মানভঞ্জন” বৈঠক কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
