ডেইলি ডোমকল, জয়পুর: রাজস্থানে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) আড়ালে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ ষড়যন্ত্র চলছে। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা দাবি করেছেন, বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে কংগ্রেস সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত করছে। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দ সিং দোতাসরা জানান, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি তথ্য দিয়ে দাবি করেন, “১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বিজেপির ৯৩৭ জন বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) ৫,৬৯৪টি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। সেখানে কংগ্রেসের ১১০ জন এজেন্ট মাত্র দুটি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এতেই পরিষ্কার কারা এই কারসাজি করছে।” কংগ্রেসের অভিযোগ, ৩ জানুয়ারি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষের সফরের পরেই এই ‘প্রতারণা’ শুরু হয়। এরপর ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজস্থান সফরের সময় একটি ‘সিক্রেট অপারেশন’ চালানো হয় বলে দাবি দোতাসরার। তাঁর অভিযোগ, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৫ হাজার জাল ফর্ম ছাপিয়ে কংগ্রেস সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যে কেন্দ্রগুলিতে কংগ্রেস জিতেছে, সেখানে এই তৎপরতা বেশি।
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী একজন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) দিনে ১০টির বেশি ফর্ম বিলি করতে পারেন না। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রীরা বিএলও-র জাল স্বাক্ষর সম্বলিত হাজার হাজার ফর্ম এসডিও (SDM) অফিসে জমা দিচ্ছেন। এমনকি বহু বিএলও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে ওই ফর্মগুলিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। ভোটার তালিকায় আপত্তি জানানোর সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দোতাসরার মতে, কংগ্রেসপন্থী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ শেষ করতেই নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “বিজেপি সদস্যরা কখনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা তাড়ানোর নাম করে, আবার কখনও অন্য অজুহাতে ‘ভোট চুরি’ করছে। এটি ব্যবস্থার নগ্ন অপব্যবহার।”
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পরাজয়ের ভয়েই কংগ্রেস এখন কুৎসা রটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজস্থানে বর্তমানে ৫.৪৬ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪২ লক্ষ নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জানানো যাবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
