ডেইলি ডোমকল, শ্রীনগর: দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় মেরুকরণ এবং বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে সোমবার সরব হলেন ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) প্রধান ফারুক আবদুল্লা। নির্বাচনী ফায়দা লুটতে সুপরিকল্পিতভাবে ঘৃণার রাজনীতি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে জম্মুর অস্থিরতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করার প্রশ্ন তোলেন জম্মু-কাশ্মীরের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
সাম্প্রদায়িকতা ও এ আর রহমানের মন্তব্য
বলিউডে কাজ কমে যাওয়ার পেছনে “সাম্প্রদায়িক ইস্যু” থাকতে পারে বলে সঙ্গীত সম্রাট এ আর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আবদুল্লা বলেন, “বিগত কয়েক বছরে দেশে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী স্বার্থে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত সবসময় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকে। এমতাবস্থায় যদি কিছু মানুষ ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করে, তবে তাদের থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
জম্মুর পরিস্থিতি ও বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজ বিতর্ক
জম্মুতে মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপিকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করেন। বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজে মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তির বিরোধিতার জেরে কলেজের অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করার ঘটনার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন করেন, “জম্মুতে ঘৃণার বীজ কে বপন করছে? কারা জম্মুকে আলাদা করার স্লোগান দিচ্ছে এবং এর নেপথ্যেই বা কারা রয়েছে?” উল্লেখ্য, ওই কলেজের সব আসন হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত রাখার দাবিতে আন্দোলনের সমর্থনে সরব হয়েছিল বিজেপি।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে কড়া বার্তা
জম্মু-কাশ্মীরে ড্রোন, মাদক ও অস্ত্র পাঠিয়ে পাকিস্তানের ক্রমাগত অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা প্রসঙ্গে আবদুল্লা বলেন, “প্রতিবেশী দেশ এই ধরনের অপচেষ্টা কখনোই বন্ধ করবে না। কিন্তু আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ১৯৪৭ সালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা পাকিস্তানে যাইনি, আমরা ভারতে থাকব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা গান্ধীর ভারতে থাকতে চেয়েছিলাম।” আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “আজকের ভারত আর সেই গান্ধীর ভারত নেই। মানুষ এখন এখানে অস্বস্তি বোধ করছে। যারা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীর মন্দির তৈরি করছে, তারাই এখন ধর্মের নামে লড়াই করছে।”
মহারাষ্ট্র নির্বাচন ও সাংগঠনিক বৈঠক
মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ফারুক আবদুল্লা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, এতে নতুন কিছু নেই। এটাকে বড় করে দেখার প্রয়োজন নেই।” বর্তমানে জম্মু অঞ্চলে দলের ব্লক সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে দুই দিনের একটি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন তিনি। দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শোনার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে, জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা শীঘ্রই বা বিলম্বে হলেও পুনরুদ্ধার হবে বলে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন প্রবীণ এই নেতা।
