ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার ডাক দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। মঙ্গলবার সরস্বতী শিশু মন্দিরে আয়োজিত এক ‘সামাজিক সদ্ভাব’ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অনুপ্রবেশকারী সমস্যা থেকে শুরু করে হিন্দু পরিবারের জনসংখ্যা—একাধিক বিষয়ে সঙ্ঘের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া দাওয়াই দিয়েছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে (Detect), তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে (Delete) এবং তারপর দেশছাড়া করতে হবে (Deport)। তিনি সাফ জানান, এই বিদেশিদের কোনোভাবেই কর্মসংস্থান দেওয়া যাবে না।
হিন্দুদের জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহন ভাগবত এক অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি হিন্দু দম্পতির অন্তত তিনটি সন্তান নেওয়ার কথা ভাবা উচিত। তাঁর যুক্তি, বৈজ্ঞানিক মতে যে সমাজের গড় প্রজনন হার (Fertility Rate) তিনের নিচে নেমে যায়, ভবিষ্যতে সেই সমাজের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। তিনি আরও বলেন, বিবাহের মূল উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণ নয়, বরং সৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নব দম্পতিদের এই বিষয়ে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে ধর্মান্তরকরণ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান সঙ্ঘ প্রধান। পাশাপাশি, যারা হিন্দু ধর্ম ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের সসম্মানে ‘ঘরে ফেরানো’ এবং তাঁদের কল্যাণের দিকে নজর দেওয়ার জন্য কর্মীদের উৎসাহিত করেন তিনি। ভাগবতের কথায়, “হিন্দুদের জন্য বর্তমানে কোনো সরাসরি বিপদ নেই, কিন্তু সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।” জাতপাত ও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ভাগবতের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, মন্দির, জলাশয় এবং শ্মশান—এই তিনটি জায়গা যেন সমস্ত হিন্দুর জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকে। বর্ণভেদ যেন কোনোভাবেই সংঘাতের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। মহিলাদের অর্থাৎ ‘মাতৃশক্তি’কে অবলা ভাবা ভুল। তাঁদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে আমেরিকা এবং চিনের কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে বলে সতর্ক করেন আরএসএস প্রধান। তিনি জানান, ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বকে পথ দেখাবে, তাই নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি। এদিনের এই কর্মসূচিতে রামকৃষ্ণ মিশন, ইসকন, আর্ট অফ লিভিং-এর প্রতিনিধিবৃন্দ ছাড়াও শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভাগবত স্পষ্ট করে দেন, যারা ভিন্ন মত পোষণ করেন তাঁরা শত্রু নন, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে চলা সনাতন দর্শনের মূল ভিত্তি।
