TOP NEWS

মদ নিষিদ্ধ হলেও কমছে না মাদকাসক্তি! বিহারে ৮ বছরে গ্রেফতার ১৬ লক্ষ মানুষ

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে মদ নিষিদ্ধকরণ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য বিধান পরিষদে এক প্রশ্নের উত্তরে বিহার সরকার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে রাজ্যে অন্যান্য মাদকদ্রব্য ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিধায়করা। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরেরও বেশি সময়ে বিহারে মদ নিষিদ্ধকরণ আইনের অধীনে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ১৬ লক্ষ। এফআইআর দায়ের হয়েছে ১০ লক্ষ। তদন্তে নেমে ৪.৫ কোটি লিটার অবৈধ মদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি মদ সরবরাহে ব্যবহৃত ১.৬ লক্ষটি যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিধান পরিষদে এমএলসি রবীন্দ্র প্রসাদ সিং-এর এক প্রশ্নের জবাবে গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী অশোক চৌধুরী স্বীকার করেছেন, মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে শিশুদের মধ্যে থিনার এবং ড্রাগ ব্যবহারের প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। তবে সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, এই সময়কালে ১৫,৮০০ কেজি গাঁজা, ২৪০ কেজি আফিম, ৩৫০ কেজি চরস এবং ৪০,০০০ লিটার কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এমএলসি বীরেন্দ্র নারায়ণ যাদব উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত দিয়ে বিহারে মাদক প্রবেশের বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর জবাবে মন্ত্রী জানান, ভিন রাজ্য এবং নেপাল থেকে মাদক ও মদের চোরাচালান রুখতে সীমান্তে মোট ৬৬টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে ২২টি চেকপোস্ট, নেপাল সীমান্তে (আন্তর্জাতিক) ১৭টি চেকপোস্ট, ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ১৯টি চেকপোস্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে ৮টি চেকপোস্ট। মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি চেকপোস্টে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ব্রেথালাইজার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাদক সরবরাহকারী বড় গ্যাংগুলোকে চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, পূর্ব চম্পারণ পুলিশ নেপাল সীমান্ত দিয়ে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। প্রায় ১.৫ কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এই অভিযানে। গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত পাচারকারী নরেশ দাস ওরফে সাধুকে। পুলিশের দাবি, নরেশ গেরুয়া পোশাকের আড়ালে ৮ কেজি চরস ও গাঁজা লুকিয়ে পাচার করছিল। জেলা পুলিশ সুপার (SP) স্বৰ্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের অন্যতম পদক্ষেপ হলো রাজ্যে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধকরণ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী সদস্য বা ‘জীবিকা দিদি’দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটি কঠোরভাবে বলবৎ রাখতে সরকার এখন আধুনিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহারের ওপরও জোর দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!