প্রবীণদের লক্ষ্য করে ‘ভার্চুয়াল আটক’—ভুয়ো আদালত, ভুয়ো পুলিশ, সত্যিকারের ক্ষতি
বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: দেশে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে অপরাধও বদলেছে। ব্যাংক জালিয়াতি, ফিশিং বা ওটিপি প্রতারণার সীমা ছাড়িয়ে এখন এক নতুন ও ভয়াবহ প্রবণতা সামনে এসেছে—“ডিজিটাল গ্রেপ্তার” বা ডিজিটাল অ্যারেস্ট স্ক্যাম। এখানে বন্দুক নেই, হাতকড়া নেই, পুলিশ ভ্যান নেই—তবু ভুক্তভোগী বিশ্বাস করেন তিনি আইনের কবলে পড়েছেন। ভয়, বিচ্ছিন্নতা এবং কর্তৃত্বের ছদ্মবেশ—এই তিন অস্ত্রেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক সাইবার চক্র।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এ ধরনের প্রতারণায় প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে—যা একটি ছোট রাজ্যের বার্ষিক বাজেটের সমান। প্রবীণ নাগরিকরা বিশেষভাবে টার্গেট হচ্ছেন। সর্বশেষ ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে, এই প্রতারণা কেবল অর্থনৈতিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের রূপ নিয়েছে।
সঞ্চয়ের জীবনভর পরিশ্রম কয়েক ঘণ্টায় উধাও
৭৪ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক—যিনি একসময় মুম্বইয়ের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান -এ মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন—অবসরের পর সঞ্চিত স্থায়ী আমানত ও নিয়মিত সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কয়েক দশকের আর্থিক শৃঙ্খলা তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছিল।
একদিন একটি ভিডিও কল আসে। স্ক্রিনে একজন নিজেকে টেলিকম দফতরের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। কণ্ঠে তাড়াহুড়ো ও আতঙ্কের সুর—তাঁর আধার নম্বর নাকি অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে। কথা শেষ হওয়ার আগেই আরেকজন কল-এ যোগ দেন—নিজেকে আইপিএস অফিসার বলে দাবি। অভিযোগ আরও গুরুতর—তাঁর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, তদন্তে নেমেছে সিবিআই, গ্রেপ্তার আসন্ন।
বৃদ্ধা চিকিৎসক হতবিহ্বল। বাস্তব ও কল্পনার সীমা ঝাপসা হয়ে যায়। ভিডিও কলই হয়ে ওঠে “জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ”। তাঁকে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়—তদন্তে সহযোগিতা হিসেবে। ভয়ে, বিচ্ছিন্নতায় এবং কর্তৃত্বের চাপে তিনি প্রায় ৪.২ কোটি টাকা হারান। পরে জানা যায়—সবই ছিল সাজানো “ডিজিটাল গ্রেপ্তার”।
শিল্পপতি এসপি ওসওয়াল: ভুয়ো সুপ্রিম কোর্ট শুনানি
২০২৪ সালে আরেকটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ৮২ বছর বয়সী শিল্পপতি —ভার্ধমান গ্রুপের চেয়ারম্যান—দুই দিন ধরে ভুয়ো “ডিজিটাল গ্রেপ্তার”-এর ফাঁদে বন্দি ছিলেন।
প্রতারকেরা নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। ভিডিও কল-এ দেখা যায় আদালতের প্রতীক, নথি, বিচারকদের আসন। এমনকি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি -এর মতো দেখতে একজনকে ভিডিওতে হাজির করা হয়—যেন সুপ্রিম কোর্ট শুনানি চলছে।
অভিযোগ—তিনি আর্থিক অপরাধে জড়িত। কথা বলা নিষেধ, কাউকে জানানো নিষেধ। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে—অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে। আতঙ্কিত শিল্পপতি বিশ্বাস করেন তিনি সত্যিই আইনের আওতায়। তিনি প্রায় ৭ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন “সরকারি” অ্যাকাউন্টে—যা পরে প্রতারণা প্রমাণিত হয়।
“ডিজিটাল গ্রেপ্তার”: মনস্তাত্ত্বিক ডাকাতি
দিল্লি-এনসিআর-এ বহু এমন মামলায় যুক্ত সাইবার ও প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞ মিমাংসা আম্বাস্থা এই প্রতারণাকে বলেন “মনস্তাত্ত্বিক ডাকাতি”। তিনি জানান, এই অপরাধের শক্তি হল—আইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও কর্তৃত্বের ভয়। মানুষ জানেন না—ভারতের কোনও সংস্থা ভিডিও কলে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করে না। এই অজ্ঞতাকেই অস্ত্র বানায় প্রতারকরা।
আম্বাস্থা তিনটি সাধারণ সমস্যা চিহ্নিত করেছেন যা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে বাধা দেয়।
১. মিউল অ্যাকাউন্ট ও অফশোর লেয়ারিং: অর্থ অদৃশ্য হয়ে যায়
ভুক্তভোগী টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে তা একাধিক “মিউল” অ্যাকাউন্টে ঘোরানো হয়, তারপর অফশোর অ্যাকাউন্ট বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে স্থানান্তরিত হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্থ ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে যায়। ফলে অর্থ পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই অর্থের ট্রেস মুছে যায়।
২. প্রমাণের অভাব: ভুক্তভোগী নিজেই মুছে ফেলেন সাক্ষ্য
প্রতারকেরা প্রায়ই নির্দেশ দেয়—ভিডিও কল বা চ্যাট রেকর্ড মুছে ফেলতে। ভুক্তভোগী বিশ্বাস করেন এটি “তদন্তের গোপনীয়তা”।
ফলে আইনি বিচারে “অবৈধ আটক” বা প্রতারণা প্রমাণ করা কঠিন হয়। উচ্চমানের রেকর্ডিং বা লগ ছাড়া মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট: সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধ
অনেক প্রতারণা চক্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ—কম্বোডিয়া, মায়ানমার, লাওস—থেকে পরিচালিত। আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা ধীরগতির হওয়ায় গ্রেপ্তার বা সম্পদ জব্দের হার কম। ফলে অপরাধীরা কার্যত নিরাপদ দূরত্বে থেকে ভারতে প্রতারণা চালায়।
সুপ্রিম কোর্ট: “ন্যায়বিচারের ওপর আক্রমণ” ঘোষণা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর—অম্বালার এক প্রবীণ দম্পতি ভুয়ো সিবিআই ও ইডি কর্মকর্তার ফাঁদে পড়ে ১ কোটির বেশি টাকা হারান। তাঁদের কাছে পাঠানো হয় ভুয়ো সুপ্রিম কোর্ট আদেশ, সিলমোহর ও গ্রেপ্তারের হুমকি।
দম্পতির চিঠি পৌঁছায় প্রধান বিচারপতির কাছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে। আদালত জানায়—ভুয়ো আদালত নথি ব্যবহার ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণ।
আদালত কেন্দ্র, রাজ্য, সিবিআই, রিজার্ভ ব্যাংক, টেলিকম সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়।
সিবিআই-কে সর্বভারতীয় তদন্তের “ফ্রি হ্যান্ড”
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়—দেশজুড়ে সব ডিজিটাল গ্রেপ্তার মামলার তদন্ত সিবিআই নেবে। তদন্তে নিয়ম শিথিল করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক শুনানিতে আদালত ব্যাংকগুলিকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করে—সন্দেহজনক লেনদেন কেন ধরা পড়েনি। রিজার্ভ ব্যাংককে নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন—৫৪ হাজার কোটি টাকা লুট “ডাকাতি ও দস্যুতা” ছাড়া কিছু নয়।
জাতীয় সমন্বিত সাইবার প্রতিরোধ কাঠামো
সুপ্রিম কোর্ট একাধিক কাঠামোগত নির্দেশ দেয়:
🔹স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে আরবিআই-এর সাইবার প্রতারণা এসওপি জাতীয়ভাবে প্রয়োগ
🔹আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ইউনিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক
🔹টেলিকম ইউজার আইডেন্টিফিকেশন বিধি দ্রুত জারি
🔹আইটি আইনের অধীনে সাইবার অভিযোগ পোর্টাল
🔹ব্যাংক, টেলিকম ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য ভাগাভাগির এমওইউ
🔹উদ্দেশ্য—সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত, অর্থ স্থগিত ও ভুক্তভোগী সনাক্তকরণ।
নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতা: ব্যাংকের ওপর প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টে সহায়তাকারী সিনিয়র অ্যাডভোকেট এনএস নাপ্পিনাই বলেন—ব্যাংকিং ব্যবস্থায় “পদ্ধতিগত ব্যর্থতা” রয়েছে।
আরবিআই বহু ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়মভঙ্গের জন্য শাস্তি দেয়নি বা সামান্য জরিমানা করেছে। তিনি প্রস্তাব দেন—ব্যাংকে বাধ্যতামূলক এআই-ভিত্তিক অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে হবে।
কেন প্রবীণরা প্রধান লক্ষ্য
ডিজিটাল গ্রেপ্তার প্রতারণার লক্ষ্য প্রধানত প্রবীণ নাগরিক। কারণ:
কর্তৃত্বের প্রতি উচ্চ বিশ্বাস
আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান
প্রযুক্তিগত অস্বস্তি
বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন
প্রতারকেরা দীর্ঘ সময় ভিডিও কল চালিয়ে ভুক্তভোগীকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগহীন রাখে—যেন “আটক” অবস্থায়।
কী পরিবর্তন জরুরি: বিশেষজ্ঞদের পাঁচ দফা রূপরেখা
মিমাংসা আম্বাস্থা বলেন—আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি পাঁচটি ক্ষেত্র জরুরি।
১. সরকারি সচেতনতা: “ভিডিও গ্রেপ্তার” নেই—স্পষ্ট ঘোষণা
সরকারি প্রচারাভিযানকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আনুষ্ঠানিক সার্কুলারে ঘোষণা করা উচিত—ভারতের কোনও সংস্থা ভিডিও কলে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করে না।
ডিজিটাল সমন বা নোটিস যাচাইয়ের সহজ ব্যবস্থা থাকা দরকার।
২. ডিজিটাল সমন আইন: কিউআর-ভিত্তিক যাচাই
আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সব আইনি নোটিস ডিজিটালি সাইন ও কিউআর কোডযুক্ত করা যেতে পারে।
একটি কেন্দ্রীয় “সোর্স অব ট্রুথ” ডাটাবেসে স্ক্যান করে নাগরিক যাচাই করতে পারবেন—নোটিস সত্যি না ভুয়ো।
৩. এআই-চালিত ব্যাংকিং সতর্কতা
ব্যাংকিং এআই সিস্টেম উচ্চমূল্যের অস্বাভাবিক স্থানান্তর শনাক্ত করতে পারে—বিশেষত প্রবীণদের অ্যাকাউন্টে।
হঠাৎ কোটি টাকার লেনদেন হলে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি সতর্কতা প্রয়োজন।
৪. ইন-ব্যাংক কুলিং পিরিয়ড
নতুন বেনিফিশিয়ারি যোগের পর বড় অঙ্ক স্থানান্তরে সীমা ও অপেক্ষাকাল প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ব্যাংক কর্মকর্তার মৌখিক যাচাই কল বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
৫. বিশেষায়িত সাইবার আদালত
ডিপফেক, ভয়েস ক্লোন ও ব্লকচেইন ফরেনসিক-এ প্রশিক্ষিত বিচারক-তদন্তকারীর বিশেষ সাইবার আদালত গঠন জরুরি।
এতে বিচার ও অর্থ পুনরুদ্ধার দ্রুত হবে।
ডিজিটাল গ্রেপ্তারের কৌশল: কীভাবে ফাঁদ পাতা হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণ কৌশল:
প্রথম কল—টেলিকম/কাস্টমস/ব্যাংক পরিচয়
দ্বিতীয় কল—পুলিশ/সিবিআই পরিচয়
গুরুতর অভিযোগ—মানি লন্ডারিং/ড্রাগ/ফিনান্স অপরাধ
ভয়—গ্রেপ্তার/সম্পত্তি জব্দ
বিচ্ছিন্নতা—কাউকে জানাতে নিষেধ
আর্থিক স্থানান্তর—“তদন্ত সহযোগিতা”
এটি মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া।
প্রযুক্তির অপব্যবহার: ডিপফেক আদালত ও ভয়েস ক্লোন
নতুন প্রজন্মের প্রতারকরা ব্যবহার করছে:
ডিপফেক ভিডিও
ভয়েস ক্লোন
ভুয়ো সরকারি ওয়েবসাইট
স্পুফড নম্বর
ফলে সাধারণ নাগরিকের পক্ষে সত্য-মিথ্যা বোঝা কঠিন।
আইনগত বাস্তবতা: ভিডিও কলে গ্রেপ্তার অসম্ভব
ভারতীয় আইন অনুযায়ী:
গ্রেপ্তার শারীরিক প্রক্রিয়া
পরিচয়পত্র ও ওয়ারেন্ট প্রয়োজন
থানায় হাজিরা
ভিডিও জিজ্ঞাসাবাদ শুধুমাত্র আদালত অনুমোদিত ক্ষেত্রে
কোনও অবস্থায় নাগরিককে ভিডিও কলে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া বৈধ নয়।
সামাজিক অভিঘাত: আর্থিক নয়, মানসিক বিপর্যয়
ডিজিটাল গ্রেপ্তার ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে- অপরাধবোধ, সামাজিক লজ্জা, ট্রমা ও অবিশ্বাসের কারণে অনেকে ঘটনা প্রকাশও করেন না।
প্রতিরোধ: নাগরিকরা কী করবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভিডিও কলে আইনপ্রয়োগকারী পরিচয় সন্দেহ করুন। অর্থ স্থানান্তর করবেন না এবং পরিবারকে জানান। কল রেকর্ড করুন ও ১৯৩০ সাইবার হেল্পলাইনে অভিযোগ করুন।
ভবিষ্যৎ লড়াই: প্রযুক্তি বনাম প্রতারণা
ডিজিটাল গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিয়েছে—সাইবার অপরাধ প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজে নতুন মাত্রা নিয়েছে। আইন, ব্যাংকিং, টেলিকম, প্রযুক্তি ও নাগরিক সচেতনতার সমন্বিত লড়াই ছাড়া এটি থামানো কঠিন।
ভয়ের স্ক্রিনে বন্দি সমাজ
হাতকড়া নেই—তবু মানুষ বন্দি।
আদালত নেই—তবু বিচার চলছে।
পুলিশ নেই—তবু গ্রেপ্তার বিশ্বাস হচ্ছে।
ডিজিটাল যুগে অপরাধের নতুন রূপ—যেখানে স্ক্রিনই কারাগার, ভয়ই শিকল, আর বিশ্বাসই অস্ত্র।
ভারত যদি দ্রুত প্রতিরোধ না গড়ে তোলে, তবে এই “ভার্চুয়াল আটক” বাস্তব অর্থনীতি ও সমাজে আরও গভীর ক্ষত তৈরি করবে।
ডিজিটাল গ্রেপ্তার কেবল সাইবার প্রতারণা নয়—এটি রাষ্ট্র, প্রযুক্তি ও নাগরিক সচেতনতার পরীক্ষাও।
এখন প্রশ্ন—ভয় জিতবে, না সচেতনতা?
