TOP NEWS

“বাহিনী বসিয়ে রাখা যাবে না, সরাসরি নামাতে হবে মাঠে”: রাজ্যকে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের

ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। সোমবারের এই বৈঠক থেকে রাজ্যকে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন— রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোনোভাবেই বসিয়ে রাখা যাবে না, তাদের সরাসরি সক্রিয় কাজে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসে অলস বসে থাকলে চলবে না। শান্তি বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বাহিনীকে বুথে ও এলাকায় মোতায়েন করতে হবে। এদিন বৈঠকে সাফ বলা হয়েছে, বাহিনীকে সরাসরি কাজের জায়গায় পাঠাতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকাগুলোতে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস (GPS) লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কমিশন সরাসরি দেখতে পাবে বাহিনী কোথায় অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এককভাবে নয়, বরং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করবে। তবে সার্বিক নজরদারি চালাবে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন।

কমিশনের এই নির্দেশ সামনে আসতেই রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই মূলত সংঘাত। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাহিনীকে যদি রাজ্য পুলিশের নির্দেশে চলতে হয়, তবে তারা কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে থাকবে। বিজেপির এক নেতার কথায়, “কমিশনের হাতে যদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তবেই সুষ্ঠু ভোট সম্ভব। রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলে বাহিনী কোনোদিনই কাজ করতে পারবে না।”

তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!