TOP NEWS

“ওরা ২ জনকে মারলে তোমরা ১০০ জনকে মারো!”—সংখ্যালঘুদের নিশানা করে হিংসায় মদদ হিন্দুত্ববাদীদের

ডেইলি ডোমকল, রায়বেরেলি: উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলিতে আয়োজিত ‘বিরাট হিন্দু সম্মেলন’-এ দুই হিন্দুত্ববাদী নেত্রী খুশবু পাণ্ডে এবং ঋদ্ধিমা শর্মার বক্তব্যের জেরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি, বুধবারের ওই সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করে ‘ঘৃণা ভাষণ’ (Hate Speech) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ঋদ্ধিমা শর্মা বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি প্রতিহিংসার ডাক দেন। তিনি বলেন, “ওরা যদি তোমাদের দু’জনকে মারে, তবে শান্তির জন্য বদলে তোমরা ১০০ জনকে মারো।”

তথাকথিত ‘লভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা করে তিনি আরও বলেন, “ওরা যদি তোমাদের একটা হিন্দু মেয়েকে নিয়ে পালায়, তবে তোমরা ওদের ১০০টা মেয়েকে নিয়ে পালাও।” এমনকি মুসলিমদের জনসংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সংখ্যা কমালে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

অন্যতম বক্তা খুশবু পাণ্ডে তাঁর বক্তব্যে ‘ফুলকপি চাষ’-এর প্রসঙ্গটি পুনরায় উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ভাগলপুর দাঙ্গায় বিহারের লোগাইন গ্রামে ১১৬ জন মুসলিম পুরুষকে হত্যার পর তাঁদের দেহ ক্ষেতে পুঁতে ওপরে ফুলকপির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নারকীয় ঘটনাকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ রয়েছে খুশবুর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ঠাকুর রাম সিং নামে এক কর্মী খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগ তোলেন। সভার অন্যান্য বক্তারাও ‘জিহাদি’দের থেকে হিন্দু নারীদের ‘রক্ষা’ করার নামে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রায়বেরেলির পুলিশ সুপারের (SP) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়া। ঋদ্ধিমা শর্মার বিরুদ্ধে সরাসরি ‘গণহত্যার ডাক’ দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে ঘৃণা ভাষণ এবং গণহত্যার ডাক দেওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।” প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!