TOP NEWS

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৪ শতাংশ: মুডিস-এর পূর্বাভাস

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরকারের কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপের হাত ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বখ্যাত রেটিং সংস্থা মুডিস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থার মতে, এই প্রবৃদ্ধির হার ভারতকে জি২০ (G20) অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম ক্রমবর্ধমান দেশের তালিকায় শীর্ষে রাখবে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার ইতিবাচক রূপরেখা

মুডিসের প্রতিবেদনে ভারতের ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঋণের সম্ভাব্য ক্ষতি সামলানোর জন্য ভারতীয় ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ফলে ২০২৬ সালেও ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক পরিবেশ অনুকূল থাকবে। সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.১৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান অর্থবর্ষে (FY26) ১০.৬ শতাংশ ছিল।

কেন বাড়বে চাহিদা?

গ্লোবাল ব্রোকারেজ সংস্থাটির মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং তার আগে ব্যক্তিগত আয়করের সীমা বৃদ্ধি গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এর ফলে দেশজুড়ে ভোগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।

আরবিআই-এর মুদ্রানীতি ও মুদ্রাস্ফীতি

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি ২০২৬ সালের প্রথম নীতি পর্যালোচনায় সুদের হার বা রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। মুডিস মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় নীতি গ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সুদের হার আরও কমানোর বিষয়টি নির্ভর করবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার স্পষ্ট লক্ষণের ওপর।

অন্যান্য পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা

উল্লেখ্য, মুডিসের এই ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক সার্ভে’ বা অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেওয়া ৬.৮-৭.২ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম। অন্যদিকে, সরকারি হিসেবে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ ছুঁতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দেশের সঙ্গে সফল বাণিজ্য চুক্তি এবং অনুকূল অর্থনৈতিক চক্রের কারণে ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে একটি মজবুত অবস্থানে রয়েছে। বড় কোম্পানিগুলোর উন্নত মুনাফা এবং শক্তিশালী ব্যালেন্স শিটের কারণে ঋণের গুণমানও ভালো থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!