ডেইলি ডোমকল, বেইরুট: ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চায় না খামেনির দেশ ইরান। তবে আবার হামলা বা আক্রমণ হলে পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেইরুটে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। আরাগচি জানান, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতেও তেহরান প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের ‘হুকুম বা নির্দেশের’ ভিত্তিতে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
লেবাননে দু’দিনের সফরের শুরুতে বেইরুটে আরাগচি বলেন, “আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার পরীক্ষা চালিয়েছিল, কিন্তু সেই হামলা ও কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা যদি আবার এমন কিছু করে, একই পরিণতির মুখোমুখি হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু যুদ্ধ হলে তার জন্যও প্রস্তুত।”
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল আবারও ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। গত জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করেছিল, যেখানে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে বোমা হামলা চালায়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ফের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আরোপ করেন, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রোধ করা। এই অভিযানের অংশ হিসেবে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এদিন আরাগচি সাফ বলেন, তেহরান আলোচনায় প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে হতে হবে। তাঁর কথায়, “আমরা বিশ্বাস করি, যখন আমেরিকানরা বুঝবে যে নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা-ই সঠিক পথ, তখনই সেই আলোচনার ফলপ্রসূতা দেখা যাবে।”
২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যায়, যা অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়ামের খুব কাছাকাছি। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরানের একটি সংগঠিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছিল।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে, ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, দেশটি যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক হামলা চালাবে।
