TOP NEWS

খাবারের অভাবে অভুক্ত, গভীর খাদ্য সংকটের মুখে পাকিস্তান: রিপোর্ট HIES-র

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: তীব্র খাদ্য সংকট এবং খাবারের অভাবে অভুক্ত থাকতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। পাকিস্তানে পারিবারিক খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের হাউসহোল্ড ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক সার্ভে (HIES)। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রায় প্রতি চারজনের একজন মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েচেন। যেখানে ২০১৮–১৯ সালে এই হার ছিল প্রায় প্রতি ছয়জনে একজন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

দ্য নিউজ পাকিস্তান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮–১৯ সালে যেখানে মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার হার ছিল ১৫.৯২ শতাংশ, ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩৫ শতাংশে—অর্থাৎ ছয় বছরে ৮.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি, যা আপেক্ষিক হিসাবে ৫৩ শতাংশের বিশাল উল্লম্ফন। তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার হারও বেড়েছে—২০১৮–১৯ সালে ২.৩৭ শতাংশ থেকে ২০২৪–২৫ সালে তা ৫.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে দেশটি কার্যত এক গভীর ক্ষুধা সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষণীয়ভাবে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য সাধারণত গ্রামীণ এলাকার সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও, পাকিস্তানে খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে শহরাঞ্চলে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় বৃদ্ধি ৩৯ শতাংশ। তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতা এখন শহরাঞ্চলে (৫.১২ শতাংশ) গ্রামীণ এলাকার (৪.৯৯ শতাংশ) তুলনায় বেশি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার অবক্ষয়কে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদেশভিত্তিক হিসাবে বেলুচিস্তানে মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার হার সর্বোচ্চ, এরপরেই রয়েছে সিন্ধু। বিস্ময়করভাবে, বহুল আলোচিত ১৪ রুপি রুটির দামের পরও পাঞ্জাব তৃতীয় স্থানে রয়েছে, কাইবার পাখতুনখোয়ার আগেই।

আয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আয়ের দিক থেকে নিম্নতম ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে মাঝারি বা তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার হার সর্বোচ্চ—৪৫.৯৭ শতাংশ। তবে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আয়ের শীর্ষ ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যেও—যাদের মধ্যে মধ্যবিত্তের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত—এই হার ৮.৯৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান একটি দরিদ্র দেশ হওয়ায় শীর্ষ ২০ শতাংশও প্রকৃত অর্থে খুব সচ্ছল নয়—এ যুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই শ্রেণির মধ্যেও ক্ষুধা বাড়ছে—এটি দেশটিতে জীবিকা নির্বাহ কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে, তারই ইঙ্গিত।

প্রতিবেদনে কোভিড-১৯ মহামারি, ২০২২ সালের বন্যা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিকে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, তবু অধিকাংশ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় এখনও অত্যধিক। পাশাপাশি, তীব্র বর্ষাকালীন বন্যা ক্রমেই নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, “পরবর্তী মহামারি বা অনুরূপ বৈশ্বিক সংকট কবে আসবে তা কেউ জানে না, তবে আমাদের নাজুক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সেসব মোকাবিলা করতে পারবে না—এটি স্পষ্ট। এর সঙ্গে যদি আইএমএফের তত্ত্বাবধানে কৃষিখাতে কর বৃদ্ধি পায় এবং সরকারের সহায়তা কমে যায়, তবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি মানুষের জন্য এটাই নিয়ে আসে, তবে সেই স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!