ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: “পুলিশের এই উর্দি আমাকে সমাজে প্রচুর সম্মান দিয়েছে এবং আমি আজীবন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এর মর্যাদা রক্ষা করেছি। নিজের কর্মজীবন নিয়ে আমি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট। কিন্তু বর্তমানে রাজ্য ও দেশের বুকে যেভাবে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বাড়ছে, তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আমি এই সাম্প্রদায়িকতার বিষ দূর করতে চাই এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় কাজ করতে চাই।” উত্তেজনাপূর্ণ এই বার্তা দিয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন মোরাদাবাদের গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP)-এর এক হেড কনস্টেবল। ওই পুলিশ কর্মীর নাম মোহাম্মদ জামশেদ। তাঁর এই নজিরবিহীন পদত্যাগপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং পুলিশ মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল ও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
হেড কনস্টেবল মোহাম্মদ জামশেদ বর্তমানে মোরাদাবাদ জিআরপিতে কর্মরত থাকলেও, এর আগে তিনি বরেলী জেলার ফতেহগঞ্জ পূর্ব থানায় কর্মরত ছিলেন। সেই কারণে নিয়ম মেনে তিনি বরেলীর সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) অনুরাগ আর্যর কাছে নিজের লিখিত ইস্তফাপত্রটি পাঠিয়েছেন। নিজের চিঠিতে জামশেদ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “আজকের দিনে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আমি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা হ্রাস করতে এবং দেশের সেবা করতে চাই। সেই কারণেই আমি উত্তর প্রদেশ পুলিশ থেকে পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক। দয়া করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করুন।”
মোহাম্মদ জামশেদের এই চিঠিটি হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর খোদ পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের অন্দরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের এভাবে খোলাখুলিভাবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা এবং চাকরি ছেড়ে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বেশ ‘সাহসী’ ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।
জামশেদ জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক উপায়ে সমাজে আবার সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতা ও একতার আদর্শকে শক্তিশালী করা। তিনি মনে করেন, পুলিশের খাঁচায় বন্দি থাকার চেয়ে রাজনৈতিক মঞ্চ তাঁকে দেশ গঠনের কাজে আরও বড় এবং স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।
ব্যক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ জামশেদ মোরাদাবাদ জেলার মৈনাথের থানা এলাকার গুরের গ্রামের বাসিন্দা। চলতি বছরের গত ২২ মার্চ থেকে তিনি মোরাদাবাদ জিআরপিতে সংযুক্ত রয়েছেন। তবে তাঁর এই বিতর্কিত ও আবেগঘন পদত্যাগপত্রটি বরেলীর এসএসপি বা উত্তর প্রদেশ পুলিশ সদর দফতর শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেছে কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় স্তরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
