TOP NEWS

কোমায় দেশের অর্থনীতি: একশোর বেশি জায়গায় বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, সহিংসতায় মৃত অন্তত ১০

(ইরানের একটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ। || Image Credit: X/Screenshot)

ডিডি, তেহরান: দুর্বল অর্থনীতিকে ঘিরে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোররাতে সংঘটিত মৃত্যুগুলো সহিংসতার নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দেশটির প্রধান শিয়া ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর শহর কুমে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হন বলে খবর। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দেশটির এক সংবাদমাধ্যম জানায়, নিহত ব্যক্তি জনতার ওপর হামলার উদ্দেশ্যে গ্রেনেডটি বহন করছিলেন। কুম রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। কুম থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতভর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে কেরমানশাহ প্রদেশের হারসিন শহরে। তেহরান থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজের এক সদস্য বন্দুক ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২২টির ১০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান বিক্ষোভ এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়ে ওঠেনি। মাহসা আমিনিকে কর্তৃপক্ষের মতে ‘যথাযথভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।

অর্থনৈতিক ইস্যু থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধেও স্লোগান শোনা যাচ্ছে। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল—ইরানের অর্থনীতি চাঙা করতে তেহরানের তেমন সাফল্য আসেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন ইরানের বেসামরিক সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, দ্রুত অবমূল্যায়িত ইরানি রিয়াল ঠেকাতে তার করার মতো খুব বেশি কিছু নেই। বর্তমানে ১ ডলার কিনতে প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল লাগছে—যা থেকেই প্রাথমিক বিক্ষোভের সূত্রপাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!