TOP NEWS

২০০০ কিমি পাল্লা ও দেড় টন ওজনের যুদ্ধাস্ত্র: ইরানের নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশহর’ উন্মোচন

ডেইলি ডোমকল, তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের সামরিক আধিপত্য আরও সুসংহত করতে ইরান উন্মোচন করেছে তাদের সর্বাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশহর-৪’। প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে দাবি করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উন্মোচন করা হয়েছে তাদের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের চতুর্থ সংস্করণ ‘খোররামশহর-৪’ (যা ‘খয়বার’ নামেও পরিচিত)। ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, খোররামশহর সিরিজের এই নতুন সংস্করণটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও নির্ভুল।

এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

🔹বিশাল পেলোড ক্ষমতা: এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৫০০ কেজি (১.৫ টন) ওজনের বিশাল যুদ্ধাস্ত্র (Warhead) বহন করতে সক্ষম। এটি বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী অস্ত্র।

🔹তরল জ্বালানি চালিত ইঞ্জিন: ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উন্নত ‘লিকুইড-ফুয়েল’ প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।

🔹মধ্য-পথের দিকনির্দেশনা: উড্ডয়নকালে মাঝপথে দিক পরিবর্তন বা গতিপথ সংশোধনের জন্য এতে রয়েছে ‘মিড-কোর্স গাইডেন্স’ সিস্টেম। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর দ্বারা শনাক্ত করা এবং ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। এর উন্নত প্রযুক্তি একে রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি চলে এসেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েল ইরানের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খোররামশহর-৪ এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো প্রকার আক্রমণের মুখে তারা অত্যন্ত বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!