ডেইলি ডোমকল, জেরুজালেম: গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফা সীমান্ত ক্রসিং সীমিত আকারে পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর। তবে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শেষ অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মির দেহ খুঁজে বের করার অভিযান শেষ হওয়ার পরই কেবল এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। চলতি সপ্তাহের শেষে জেরুজালেমে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের পর এই ঘোষণা এল। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন দূতরা আলোচনার সময় সীমান্তটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রাফা সীমান্ত সচল করা। গাজায় ত্রাণ সহায়তার প্রবেশের জন্য এটি একটি অন্যতম প্রধান পথ। তবে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী এই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এটি বন্ধ রয়েছে। বিগত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে গাজায় বর্তমানে চরম মানবিক বিপর্যয় বিরাজ করছে। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার গাজায় আরও মানবিক সহায়তা পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে গাজার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি রসদ সম্পূর্ণভাবে এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল এই সীমান্ত দিয়ে কেবল ‘পথচারী চলাচলের’ অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসরায়েলের কঠোর তল্লাশি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া ওই বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণভাবে “জীবিত সকল জিম্মির প্রত্যাবর্তন এবং মৃত জিম্মিদের দেহ খুঁজে বের করে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে হামাসের ১০০ শতাংশ প্রচেষ্টার” ওপর নির্ভর করবে।
