TOP NEWS

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর শৌর্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপস্থিতিতে বর্ণিল কর্তব্য পথ

(Image Credit: X/@narendramodi)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারত তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করল। দিল্লির কর্তব্য পথে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামরিক শক্তির এক অভাবনীয় প্রদর্শনী দেখা যায়। এই কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যবহৃত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক মারণাস্ত্রের মহড়া। এ বছরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। ভারতের জাতীয় দিবসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অংশগ্রহণকে একটি বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের কুচকাওয়াজের মূল থিম ছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর। তবে একই সঙ্গে মে মাসে পরিচালিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বীরত্বগাথাও কুচকাওয়াজে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রথাগত বগি চড়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং দুই বিদেশি অতিথি কর্তব্য পথে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতির অভিবাদন গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সমরাস্ত্রের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রহ্মোস ও আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, রকেট লঞ্চার ‘সূর্যাস্ত্র’, এবং অর্জুন মেইন ব্যাটেল ট্যাঙ্কের মতো ঘাতক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হয়। বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি কাঁচের আবরণে ঘেরা ‘ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনাল সেন্টার’, যেখানে ব্রহ্মোস ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কীভাবে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করা হয়েছিল, তার চিত্র তুলে ধরা হয়।

সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ব্যাটল অ্যারে ফরম্যাট’ বা যুদ্ধ বিন্যাস প্রদর্শিত হয়। যেখানে আকাশে ‘ধ্রুব’ ও ‘রুদ্র’ হেলিকপ্টারের প্রহরায় মাটির বুক চিরে এগিয়ে যায় টি-৯০ ভীষ্ম ও অর্জুন ট্যাঙ্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সামরিক কন্টিনজেন্টও এবার কুচকাওয়াজে অংশ নেয়, যা ইউরোপের বাইরে কোনো দেশে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ।

নৌবাহিনীর ট্যাবলোতে ‘শক্তিশালী নৌবাহিনী, শক্তিশালী দেশ’ থিমটি ফুটিয়ে তোলা হয়। এতে পঞ্চম শতাব্দীর সেলাই করা জাহাজ ‘আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য’ থেকে শুরু করে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’-এর প্রতিকৃতি ছিল। বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আকাশে রাফাল, মিগ-২৯ এবং সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানগুলো ‘স্পিয়ারহেড’ বা ‘সিঁদুর ফরমেশনে’ চিত্তাকর্ষক ফ্লাই-পাস্ট উপহার দেয়। ডিআরডিও (DRDO) তাদের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল ‘এলআর-এএসএইচএম’ প্রদর্শন করে, যা স্থির ও গতিশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

কুচকাওয়াজে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ১৩টি মন্ত্রণালয়ের মোট ৩০টি ট্যাবলো অংশ নেয়। ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ ফুটিয়ে তুলতে ১০০ জন শিল্পী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় দর্শক মাতান। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সিআরপিএফ ও এসএসবি-র ‘ডেয়ারডেভিলস’ মোটরসাইকেল আরোহীদের দুঃসাহসিক কসরত দর্শকদের অভিভূত করে। ফ্লাই-পাস্টে মোট ২৯টি বিমান অংশ নিয়েছিল, যার সমাপ্তি ঘটে অর্জুন, বজ্রাঙ্গ ও বরুণ ফরমেশনের মধ্য দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!