ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় চমক দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা পূর্ণাঙ্গ বাজেটে রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মাসিক ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ ৪ শতাংশ বৃদ্ধি এবং আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করে ভোটের লড়াইয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিল নবান্ন।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় থাকা কোটি কোটি মহিলা এখন থেকে মাসে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত পাবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বর্ধিত অর্থ কার্যকর হচ্ছে চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই। অর্থাৎ নির্বাচনের আগেই উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছে যাবে এই বাড়তি টাকা।
এক নজরে নতুন ভাতার হার:
১. সাধারণ শ্রেণি: ১০০০ টাকার বদলে এখন থেকে পাবেন ১৫০০ টাকা।
২. তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST): ১২০০ টাকার বদলে এখন থেকে পাবেন ১৭০০ টাকা।
এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়িয়ে আরও ২০ লক্ষ ৬২ হাজার নতুন আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৪১ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই বাড়তি খরচ সামলাতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (DA) আরও ৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর পাশাপাশি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মন জয়েও কার্পণ্য করেনি সরকার। আশাকর্মীদের মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ভাতাও ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই ছিল সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পের বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানোয় গ্রামীণ ও শহরতলীর মহিলা ভোটারদের সমর্থন আরও সুনিশ্চিত করতে চাইল শাসক দল। বিরোধীরা একে ‘ভোটের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ মানুষের জন্য এই বাজেট যে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
