ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অসমের রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ হাজার বিঘা জমি বেআইনিভাবে দখলের অভিযোগ তুলে বুধবার ‘WhoIsHBS’ নামক একটি পোর্টাল চালু করল অসম প্রদেশ কংগ্রেস। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম গুয়াহাটির রাজীব ভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়।
গুয়াহাটির রাজীব ভবনে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ, এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক জিতেন্দ্র সিং এবং ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের নামে প্রায় ১২,০০০ বিঘা জমি রয়েছে এবং ১৭টি সংস্থার সাথে তাঁদের যোগসূত্র আছে। রাজ্য সরকার প্রায় ৪০,০০০ বিঘা জমি বিভিন্ন কর্পোরেট গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জিতেন্দ্র সিং। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অসমের শত্রু’ বলেও কটাক্ষ করেন।
হাত শিবির বলেছে, সাধারণ মানুষ যাতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের কথিত দুর্নীতি এবং জমি সংক্রান্ত তথ্য বা প্রমাণ আপলোড করতে পারেন, তার জন্যই এই পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, “শক্তির অপব্যবহার ফাঁস করতেই এই স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা। আমরা দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেব।”
কংগ্রেসের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের জবাবে কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি জিতেন্দ্র সিং, ভূপেশ বাঘেল, গৌরব গগৈ এবং দেবব্রত সাইকিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানির মামলা করবেন। তাঁর কথায়, “হিট অ্যান্ড রান রাজনীতির দিন শেষ। সাহস থাকলে আদালতে প্রমাণ পেশ করুন।” গৌরব গগৈকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গগৈ-এর সাথে পাকিস্তানের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি একে ভারতের বিরুদ্ধে এক ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। অসম পুলিশ এই বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে সফল হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অসমে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা এই ঘটনার মাধ্যমেই বেজে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে কংগ্রেস যখন দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমের তাস খেলে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছেন।
