ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: সোমবার সকালে দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকার বঙ্গ ভবনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসআইআর (SIR) আবহে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বজন হারানো প্রায় ১৫০ জন সদস্য বর্তমানে বঙ্গ ভবনে অবস্থান করছেন। অভিযোগ, এদিন সকাল থেকেই দিল্লি পুলিশ গোটা হ্যালি রোড ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং বঙ্গ ভবনের প্রতিটি ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে। এই খবর পাওয়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি সোজাসুজি হ্যালি রোডের বঙ্গ ভবনে পৌঁছে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, মাসল পাওয়ার (বাহুবল) দেখাবেন না। আপনি বাংলায় গেলে আমরা রেড কার্পেট পেতে দিই। কিন্তু আপনি যদি আমাদের জন্য ব্ল্যাক কার্পেট পেতে রাখেন, তবে আমরাও ‘ব্ল্যাক রেজাল্ট’ দেখিয়ে দেব।” মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বঙ্গ ভবন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্পত্তি। সেখানে দিল্লি পুলিশ ঢুকে তল্লাশি চালানো বা সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার কোনো অধিকার রাখে না। তাঁর কথায়, “ওরা গ্রামের সরল মানুষ। স্বজন হারিয়ে বিচারের আশায় দিল্লিতে এসেছে। তাদের ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশ বিরক্ত করছে কেন?” মমতা আরও হুঁশিয়ারি দেন, তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে জানেন এবং পরিস্থিতি বাধ্য করলে তাঁরাও ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে উঠতে পারেন।
বঙ্গ ভবনে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে দেখে পালাচ্ছেন কেন? আমরা কি এখানে বিক্ষোভ করতে এসেছি? বিক্ষোভ দেখালে আপনাদের মাথা খারাপ করে দিতাম।” মমতা আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশের অফিসারদের ওপর উপরতলা থেকে থ্রেট বা চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই স্বজনহারা পরিবারগুলি মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলায় ঘটে যাওয়া অত্যাচারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।
বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পরিবারগুলোর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় স্তরে তৃণমূল বনাম বিজেপি সংঘাত এই ঘটনার ফলে আরও একধাপ তীব্র হলো। একদিকে যখন স্বজনহারাদের নিয়ে তৃণমূল রাজধানীতে সরব হতে চাইছে, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশকে সামনে রেখে বিজেপি সেই কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে বলেই জোরালো অভিযোগ উঠছে। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে আয়োজিত হতে চলা প্রেস কনফারেন্সের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল, যেখানে বাংলার সেই ১৫০টি পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরবেন।
