ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: বর্ণবিদ্বেষের শিকার এক ছাত্র। অকালে প্রাণ গেল ত্রিপুরার এক মেধাবী ছাত্রের। দেরাদুনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়তেন অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪)। পিটিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। দেরাদুনে ত্রিপুরার যুবকের খুনের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘দেরাদুনে অ্যাঞ্জেল চাকমা এবং তার ভাই মাইকেলের সঙ্গে যা ঘটেছে তা একটি ভয়াবহ অপরাধ। ঘৃণা রাতারাতি প্রকাশ পায় না। বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, টক্সিক বিষয়বস্তু চালানো হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্ব, যারা ঘৃণাকে প্রশ্রয় দেয়, তাঁরা একে স্বাভাবিক করে তুলছে।’
পড়ুয়াকে পিটিয়ে খুনকে ‘অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। রাহুল বলেন, “ভারত শ্রদ্ধা ও ঐক্যের উপর নির্মিত, ভয় ও নির্যাতনের উপর নয়। আমরা ভালোবাসা ও বৈচিত্র্যের দেশ। আমাদের এমন একটি মৃত সমাজে পরিণত হওয়া উচিত নয় যেখানে সহ-ভারতীয়দের আক্রমণ করা হলে তারা অন্যদিকে তাকিয়ে থাকবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর চব্বিশ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে একদল দুষ্কৃতী ‘চিনা’ বলে কটাক্ষ করে। প্রতিবাদ করায় অ্যাঞ্জেলকে ছুরি ও ভারী বস্তু দিয়ে নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়। টানা ১৭ দিন হাসপাতালে লড়াই করার পর গত শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বর্তমানে মণিপুরে কর্মরত এক বিএসএফ জওয়ানের পুত্র। অভিযোগ, ঘটনার দিন অ্যাঞ্জেল ও তাঁর ভাই মাইকেল বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বাইকে চড়ে আসা ৬ জন দুষ্কৃতী মাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ‘চায়নিজ মোমো’ বলে গালিগালাজ করতে থাকে। অ্যাঞ্জেল নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিলেও রেহাই পাননি। ঘাড় ও পিঠে গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
