ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারের সমস্তিপুরে পুলিশি হেফাজতে এক সোনার দোকানের কর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন এবং তাঁর গোপনাঙ্গে পেট্রোল ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য এই ভয়াবহ অত্যাচারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি বিহারের আইন-শৃঙ্খলা এবং পুলিশি ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চরম ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ডিসেম্বর মাসে সমস্তিপুরের একটি সোনার দোকান থেকে ৬০ গ্রাম সোনা চুরির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দোকানের তিন কর্মীকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের ওপর চলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। চারদিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই যুবকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ
নির্যাতনের শিকার যুবকের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে দফায় দফায় মারধর করা হয় এবং চুরির কথা স্বীকার করানোর জন্য তাঁর গোপনাঙ্গে পেট্রোল ঢেলে দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে দোকানের মালিকও তাঁদের মারধর করেন এবং ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
ঘুষের দাবি ও পরিবারকে হেনস্থা
নিগৃহীত যুবকের মায়ের দাবি, তাঁর ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাঁকেও এবং তাঁর স্বামীকেও তাজপুর থানায় তিনদিন আটকে রেখেছিল। যুবকের দাবি, পরিবারের সদস্যদের ছাড়ার বিনিময়ে পুলিশ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল। পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালালেও কোনো গয়না উদ্ধার করতে পারেনি, তা সত্ত্বেও নির্যাতন থামেনি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সমস্তিপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) অরবিন্দ প্রতাপ সিং অভিযুক্ত তিন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করেছেন। বরখাস্ত হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন তাজপুর থানার ইনচার্জ শঙ্কর শরণ দাস, রাজবংশ কুমার এবং রাহুল কুমার।
