ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশ থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী হিন্দুরা—এমনই দাবি করলেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধী নন, তবে এত বড় কাজ মাত্র দু’-তিন মাসের মধ্যে শেষ করা ঠিক হয়নি। পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাঙ্গুলি বলেন, “আমি এসআইআর-এর পক্ষে। কিন্তু এটা অত্যন্ত বড় ও জটিল কাজ। একে আরও নিখুঁত ও স্বচ্ছ করতে হলে বেশি সময় দেওয়া উচিত ছিল। ভারত একটি বিশাল দেশ, জনসংখ্যাও বিপুল। তাই ভোটার তালিকার সংশোধনের জন্য দীর্ঘ সময় বরাদ্দ করা প্রয়োজন ছিল।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত বিরোধী দলগুলির চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দা। এখানে বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুল সংখ্যক হিন্দু মানুষ বসবাস করছেন। এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হবে।” তাঁর মতে, “নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল আগে থেকেই পরিষ্কার গাইডলাইন তৈরি করা। তা হলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতো না, ভ্রান্ত ধারণা ও ভিত্তিহীন জল্পনাও ছড়াত না।”
সিপিআই(এম) নেতার বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া এমন রাজনৈতিক দলগুলির সুবিধা করবে, যাদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী। এর প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পড়বে বলেও তাঁর মত। তবে সিপিআই(এম)-এর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া বিশেষ কোনও লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কান্তি গাঙ্গুলি বলেছেন, “এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষ এখনও কমিউনিস্টদের ওপর আস্থা ফেরায়নি। মানুষের বিশ্বাস ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে ভালো ফল করা সম্ভব নয়। এসআইআর কমিউনিস্টদের ক্ষেত্রে খুব একটা পার্থক্য তৈরি করবে না।”
উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন কান্তি গাঙ্গুলি। পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বও সামলান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নথির ভুলে সিপিআই(এম) নেতা তথা কান্তি গাঙ্গুলিকে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁকে নথি যাচাইয়ের শুনানিতে ডাকায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও শুনানির নোটিস পেয়ে চাপে পড়েছেন কান্তি। তিনি বলেন, “আমি আজ (শুক্রবার) শুনানিতে হাজির হব এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথি পেশ করব।”
