নিজস্ব সংবাদদাতা, হরিহরপাড়া: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে আতঙ্কের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা নিমাই মাল (৪৪)-এর। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই গভীর মানসিক চাপে ছিলেন নিমাই, আর সেই আতঙ্কের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিমাইয়ের বাবার নাম ছিল শ্যামলাল রায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল ওই পদবিতেই। তবে নিমাইয়ের নাম বর্তমান এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকায় ওঠে ‘নিমাই মাল’ নামে। বাবা ও ছেলের পদবির এই অমিলের কারণেই তাঁকে এসআইআর শুনানির জন্য তলব করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই নাকি সঠিক নথিপত্র নিয়ে চরম উদ্বেগে ভুগছিলেন নিমাই। কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, শুনানিতে কীভাবে নিজের পরিচয় প্রমাণ করবেন—এই সব বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই গত ২৬ ডিসেম্বর দুপুর নাগাদ নিজের বাড়িতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিমাইয়ের স্ত্রী পরিবালা মাল জানান, “শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই ও খুব আতঙ্কে ছিল। বারবার বলত, যদি নথি ঠিক না হয়, তাহলে কী হবে।” পরিবারের দাবি, এই মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ। যদিও চিকিৎসকদের মতে, নিমাইয়ের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
তবে এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনাকে ‘এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু’ বলে দাবি করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, স্বাভাবিক মৃত্যুকেও রাজনৈতিকভাবে ‘এসআইআর আতঙ্ক’-এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির আরও দাবি, যদি সত্যিই এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি থেকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকে, তার দায় তৃণমূল কংগ্রেসেরই।
এ বিষয়ে রায়পুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান নাজমুল হক বলেন, নিমাইয়ের কাছে নাকি পর্যাপ্ত সঠিক নথিপত্র ছিল না। সেই কারণেই তিনি চরম উদ্বেগে ছিলেন এবং আতঙ্কের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির অভিযোগের আবহে নিমাই মাল-এর মৃত্যু নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
