TOP NEWS

৩০টি ‘নেশন-বিল্ডিং’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, আজ আমাকে অপরাধী সাজানো হচ্ছে: সুপ্রিম কোর্টে সোনম ওয়াংচুক

(Activist Sonam Wangchuk. || File Photo)

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: সহিংসতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মুখ খুলেছেন এবং জাতি গঠনে অবদানের জন্য ৩০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন—এমন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে এখন অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে দেশের শীর্ষ আদালতকে জানালেন মামলাকারীর আইনজীবী।

লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলনের সময় লেহে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) প্রয়োগ করা হয়েছে। ওয়াংচুকের স্ত্রী ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো ওয়াংচুকের জেলবন্দিকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। এদিন অ্যাংমোর পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল জানান, ওয়াংচুকের আটকাদেশের পক্ষে রাষ্ট্র যে ভিডিওগুলির উপর নির্ভর করছে, সেগুলি প্রতিরক্ষাকে সরবরাহ করা হয়নি। সিব্বাল বলেন, “আইন অনুযায়ী বিষয়টি স্পষ্ট—আটকাদেশের সব ভিত্তি যদি সরবরাহ না করা হয়, তবে সেই আটকাদেশ বাতিলযোগ্য হয়। সংবিধানের ২২(৫) অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত আইন।”

উল্লেখ্য, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ নাগরিকদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার ও আটক থেকে সুরক্ষা দেয়। ২২(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিরোধমূলক আটক সংক্রান্ত আইনের অধীনে কাউকে আটক করা হলে, কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব আটকাদেশের কারণ জানাতে হবে এবং সেই ব্যক্তিকে ওই আদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। ওয়াংচুকের পক্ষে সিব্বাল বলেন, “আটকাদেশে বলা হয়েছে, আমাকে আটক না করলে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। উদ্দেশ্য হল আমাকে আমার কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে বাধা দেওয়া। আমি ২৬ তারিখে আটক হই। তার আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনশন শুরু করি। অনশনের ১৫তম দিনে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। ২৪ তারিখে আমি অনশন ভাঙি এবং ভাষণ দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানাই।” তিনি জানান, অনশন ভাঙার সময় দেওয়া ওয়াংচুকের বক্তব্যের সঙ্গে ১৯২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চৌরি চৌরা ঘটনার পর মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সাদৃশ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সোনম ওয়াংচুক মামলার শুনানিতে সিব্বাল বলেন, “অনশন ভাঙার সময় আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—এই সহিংসতা আমি মেনে নিতে পারি না এবং সবাইকে সহিংসতা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছি। সেই ভিডিওটিই আমি আদালতে দেখাতে চেয়েছিলাম। গান্ধীজিও চৌরি চৌরার ঘটনার পর একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।” তাঁর অভিযোগ, তথ্য বিকৃত করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন ওয়াংচুক একজন অপরাধী। তিনি আরও বলেন, “আমার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে সহিংসতার বিরোধিতা করা হয়েছে। অথচ এটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে যে আমাকে আটক না করলে সহিংসতা চলতেই থাকত, যখন বাস্তবে উদ্দেশ্য ছিল ঠিক তার উল্টো। ওই ভিডিও তাদের কাছে ছিল, কিন্তু তারা তা ব্যবহার করেনি।” এদিন আদালতে সেই ভিডিও দেখানো হয়। প্রবীণ আইনজীবী জানান, অনশনের সিদ্ধান্ত ওয়াংচুক একা নেননি। তাঁর কথায়, “সংগঠনের পক্ষ থেকেই অনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আমাকে অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে অনশনে বসার অনুরোধ করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর দেখানো সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণ করেই আমি তাতে সম্মত হই।”

সিব্বালের যুক্তি, রাষ্ট্র চারটি ভিডিওর উল্লেখ করেছে, কিন্তু ২৪ তারিখের ভিডিওটিও তাদের কাছে ছিল। “ওই গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও আটককারী কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়নি। অথচ আপনারা আগেও বলেছেন, অভিযুক্তের পক্ষে থাকা নথিও চার্জশিটে উল্লেখ করলে সরবরাহ করতে হয়,” তিনি আদালতে যুক্তি দেন। এই মামলাটির পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী সোমবার।

প্রসঙ্গত, এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জনতাকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলে। গত সেপ্টেম্বর জারি করা এক বিবৃতিতে শাহের মন্ত্রক জানায়, “২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যে প্ররোচিত একটি জনতা অনশনস্থল ছেড়ে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও লেহে নির্বাচন কমিশনারের সরকারি দপ্তরে হামলা চালায়। ওই দপ্তরগুলিতে আগুন লাগানো হয়, নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা হয় এবং একটি পুলিশ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ৩০ জনেরও বেশি পুলিশ ও সিআরপিএফ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়, যাতে দুর্ভাগ্যবশত কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই সহিংসতার মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজের গ্রামে চলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুতর চেষ্টা করেননি।” তবে সরকার জানায়, লাদাখের সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!