ডেইলি ডোমকল, দেরাদুন: খুনের মামলায় ১৩ বছর জেল খাটার পর জানা গেল অপরাধের সময় তিনি নাবালক ছিলেন—এমন এক ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে উত্তরাখণ্ড হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, একটি দাপ্তরিক ত্রুটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা কার্যত অবৈধ হয়ে যায়।
বিচারপতি রবীন্দ্র মৈথানি ও বিচারপতি আশিস নাথানির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ কিশোর ন্যায় বিচার আইন (জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট)-এর আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়।
মামলার সূত্রপাত ২০০৩ সালে রুরকিতে সংঘটিত এক নৃশংস খুন ও ডাকাতির চেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে। অভিযুক্তকে প্রথমে সেশন আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। ২০১৩ সালে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ সেই রায় বহাল রাখে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টও তা অনুমোদন করে। তবে ২০২১ সালে মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয়, যখন অভিযুক্ত জেল থেকে আদালতে একটি আবেদন পাঠিয়ে দাবি করেন যে অপরাধ সংঘটনের দিন—২৪ জুন ২০০৩—তিনি নাবালক ছিলেন।
এই গুরুতর দাবির সত্যতা যাচাই করতে আদালত রেজিস্ট্রার (জুডিশিয়াল)-এর মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেয়। স্কুলের নথি, স্কলার রেজিস্টার এবং সাক্ষীদের বয়ান খতিয়ে দেখে করা তদন্তে অভিযুক্তের দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়। তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্তের প্রকৃত জন্মতারিখ ২২ মে ১৯৮৮। অর্থাৎ অপরাধের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর এক মাস।
রেজিস্ট্রারের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত স্বীকার করে যে অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্ত আইনত নাবালক ছিলেন। কিশোর ন্যায় বিচার আইনের বিধান উল্লেখ করে আদালত জানায়, নাবালকত্বের দাবি যে কোনও পর্যায়ে তোলা যেতে পারে—এমনকি সাজা ভোগের পরেও। যদিও আদালত দোষসিদ্ধি বহাল রাখে—কারণ সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে সমানভাবে অপরাধে যুক্ত ছিলেন অভিযুক্ত—তবে সাজা বহাল রাখা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্রের মতে, “আইন স্পষ্ট—কোনও নাবালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যায় না, কিংবা তিন বছরের বেশি সময় প্রাপ্তবয়স্ক সংশোধনাগারে রাখা যায় না।” যেহেতু ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ১৩ বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন—যা নাবালকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুমোদিত মেয়াদের বহু গুণ বেশি—তাই হাই কোর্ট তাঁর অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়।
এই মামলাকে বিচার ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন এক প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ। তাঁর কথায়, “শিশুকালে সংঘটিত অপরাধের জন্য একজন ব্যক্তিকে প্রাপ্তবয়স্ক আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আর নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই হতে প্রায় দুই দশক লেগে গেল।” তিনি আরও বলেন, “দেরিতে হলেও হাই কোর্টের এই হস্তক্ষেপ কিশোর ন্যায় বিচার আইনের মূল চেতনাকেই প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে শাস্তির চেয়ে সংশোধন ও পুনর্বাসনের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
